‘তেলাপোকা পার্টি’ কি মোদীর ক্ষমতার ভিত নাড়িয়ে দেবে?

বিডি নিউজ ২৪ রাজু নূরুল প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১৫:১৩

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যঙ্গ থেকে জন্ম নেওয়া ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি সংক্ষেপে সিজেপি ক্ষমতাসীন বিজেপির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক উন্মুক্ত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশটির যুবসমাজের একটি অংশকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। সেখানে তিনি বলেন, “কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো জীবনযাপন করে, যাদের কোনো কাজকর্ম নেই, চাকরিবাকরি জোটে না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা হঠাৎ করে সাংবাদিক সেজে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।”


প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের জেরে তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে চলে আসে, তখন কী হবে?” ওই সূত্র ধরে ১৬ মে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়।


২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বিজেপিকে ব্যঙ্গ করেই যে এই পার্টির নাম রাখা হয়েছে, তা বলা বাহুল্য। ক্ষমতাসীন এই দলটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠক ও সমালোচকেরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ, নাগরিক অধিকার হরণ এবং সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। যদিও বিজেপি সব সময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


প্রধান বিচারপতি অবশ্য তাড়াহুড়ো করে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের তরুণ সমাজকে নয়, বরং ‘ভুয়া ও বোগাস ডিগ্রিধারী’ মানুষদের উদ্দেশ্য করেই এই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; ঘটতে শুরু করেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।


অনলাইন কাঁপাচ্ছে তেলাপোকা পার্টি


মাত্র ৫ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে এই পার্টির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২০ মিলিয়নে পৌঁছে গেছে। প্রতি মিনিটে হু হু করে বাড়ছে ফলোয়ার। এ নিয়ে অনলাইনে সৃষ্টি হয়েছে বিরাট হাইপ। এর মধ্যেই প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেসের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা (যথাক্রমে ৮.৮ ও ১৩.৩ মিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে তেলাপোকাদের নতুন এই পার্টি।


তরুণদের এই সংঘবদ্ধতায় সরকার খানিকটা ভয় পেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রমাণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি সরকারের আইটি সেল মেটার সহযোগিতা নিয়ে ককরোচ পার্টির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দিয়েছিল। এরপর শুরু হয় তীব্র জনরোষ। ফলে চাপে পড়ে সেই অ্যাকাউন্ট আবার ফেরত দেওয়া হয়েছে।


উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়; বরং রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক অনলাইন আন্দোলন। যে কেউ এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারে, তবে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত। শর্তগুলোও বেশ মজার। আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সার্বক্ষণিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হতে হবে (দিনে কমপক্ষে ১১ ঘণ্টা) এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশে পারদর্শী হতে হবে।


তবে ‘তেলাপোকা পার্টি’ যে নিছক রসিকতা নয়, সেটি তাদের ইশতেহারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সম্প্রতি প্রকাশিত ৫ দফা ইশতেহারে বলা হয়েছে:


১. আসন সংখ্যা না বাড়িয়েই সংসদে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে হবে।


২. দলবদলকারী বিধায়ক ও সাংসদদের আগামী ২০ বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।


৩. অবসর গ্রহণের পর কোনো বিচারপতি রাজ্যসভায় যোগ দিতে পারবেন না।


৪. বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার করতে হবে।


৫. গোদি মিডিয়ার সব উপস্থাপকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্তের আওতায় আনতে হবে।


ভারতে অনেকের ধারণা, দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাই এসব গণমাধ্যমকে ব্যঙ্গ করে ‘গোদি মিডিয়া’ বলা হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও