উন্নয়নে পেশাজীবীদের ভূমিকা ব্যক্তিবান্ধব না হয়ে জনবান্ধব হবে কবে!
উন্নয়ন যখন জনকল্যাণের হাতিয়ার না হয়ে স্রেফ কিছু সুবিধাভোগী শ্রেণির পকেট ভারী করার উৎস হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড নড়বড়ে হতে বাধ্য। আমাদের দেশের প্রতিটি মেগা প্রজেক্ট বা আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে তাকালে একটি রূঢ় সত্য বারবার সামনে আসে—পেশাজীবীদের মেধা ও যোগ্যতা গণমানুষের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থ আর প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাটের চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে। বাঁধ সংস্কারের নামে কোটি টাকার বালুর বস্তা ফেলার মতো উপহাসমূলক ও ক্ষণস্থায়ী ‘উন্নয়ন ট্র্যাজেডি’ আমাদের জনমনে ক্ষোভ আর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
‘আজকের কাগজ’ পত্রিকায় গত বছরের ৯ মে ‘বাঁধ: সংস্কার ও লুটপাট’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় দিয়ে আলাপের সূত্রপাত করা যায়। সম্পাদকীয়টিতে এর আগে ৬ মে একই পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর অবলম্বনে লেখা, তাই এতে মতামতের সঙ্গে তথ্য-উপাত্তও রয়েছে। প্রকাশিত ওই সম্পাদকীয়টি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীর একটি বাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্পে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ১১০ মিটার বাঁধ সংস্কারের এই প্রকল্পে প্রস্তাবিত কাজের মধ্যে ছিল বাঁধের ওপরের দিকে ১২ মিটার ব্লক এবং নিচের দিকে ১৫ মিটার বালুর বস্তা ফেলা। এই সংস্কার কাজে বরাদ্দ অনুপাতে প্রতি মিটারে ব্যয় নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রতি ফুটে ব্যয় নির্ধারিত ছিল ৪৪ হাজার ৪৮১ টাকা।
৯ মে প্রকাশিত পূর্বে উল্লেখিত ওই সম্পাদকীয়তে এই অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়েই শুধু প্রশ্ন তোলা হয়নি, বরং জিজ্ঞাসা উত্থাপিত হয়েছিল যে, অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে দু-এক বছর পরপর বালুর বস্তা ফেলে ক্ষণস্থায়ী সংস্কার না করে কর্তৃপক্ষ কেন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করেন না! ঘটনার বিবরণী দিয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, ‘বাঁধের ঠিক বিপরীতেই পুলিশ লাইনসের ভেতরে একটি পুকুর রয়েছে। দুটি জলাধারের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে মাটির নিচ দিয়ে পানি চলাচল বাঁধের ক্ষতি করতে পারে। যদি এটিই বারবার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণ হয়, তবে শুধু বালুর বস্তা ফেলে দায়সারা গোছের সংস্কার না করে এর একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খোঁজা জরুরি ছিল।’ ঘটনাটি এক বছর পুরোনো। আশা করা যায়, উল্লেখিত প্রকল্পের সেই কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং বছর ঘুরে কর্তৃপক্ষ আবারও বাঁধ সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা করছেন। তবে এক বছর পূর্বে প্রকাশিত এই সম্পাদকীয় আলোচনার জন্য কিছু খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের সামনে এনে দিয়ে গেছে। প্রথমটি; দেশের মেধাবী পেশাজীবীরা প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারছেন কি না? দ্বিতীয়টি; পতিত সরকারের আমল থেকে চলে আসা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ধারাবাহিকতা—যা ২০২৫ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত দৃশ্যমান ছিল, তা কি নতুন সরকারের আমলেও একইভাবে চলমান থাকবে? তৃতীয়টি; উন্নয়ন প্রকল্প জনবান্ধব হবে, নাকি ব্যক্তিবান্ধবই রয়ে যাবে? চতুর্থটি; দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার সমাজের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, তেমন সমাজ কি সাধারণ মানুষ পাবে না?
একটা সময় ছিল, যখন কারিগরি কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত দেশের মেধাবী পেশাজীবীরা ‘মিস্টার টেন পারসেন্ট’ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। বর্তমানের জবাবদিহিতাহীন সমাজে তারা এখন আর টেন পারসেন্টে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারছেন না। ফলে দেশের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পকে সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করে তোলা হয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, যারা দিনের পর দিন একটার পর একটা প্রকল্পে লুটপাটের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না। ঘটনাগুলো নিয়ে স্থানীয় বা জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়, দু-চার দিন সামান্য হইচই হয়, তারপর অন্য একটি প্রকল্পের সংবাদ প্রকাশিত হলে পুরোনোটা ধামাচাপা পড়ে যায়। একটা সময় দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে একক দায়িত্ব পালন করত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; কিন্তু এখন আর তা নেই। এখন সকল মন্ত্রণালয়ই তাদের নিজেদের নির্মাণ নিজেরাই করে। কারণ, এত লাভজনক ব্যবসা অন্যের হাতে তুলে দিলে নিজেদের চলবে কীভাবে? আর তাই সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এক মিটার বাঁধ সংস্কারে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৩ টাকা ব্যয় নির্ধারিত হলে অবাক হন না দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেউই। ফলে দেশের অনাহারী-অনক্ষর জনগণ অবাক হলে কিংবা প্রশ্ন তুললে লাভ কী?
দেশপ্রেম আর মানবপ্রেমে বিনয়ী ও সুজন করার শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। তার ওপর কোনো পেশা শিক্ষার ক্ষেত্রেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি পড়ানো হয় না। ফলে মানবিক ও সামাজিক শিক্ষাহীন এই পেশাজীবীদের কাছে জনবান্ধব প্রকল্পের প্রত্যাশা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা বিবেচনার দাবি রাখে। আমরা জানি যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্ল্যানিং সেল আছে। বোর্ডের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা এখানে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে যত প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়ে থাকে, তার অনুমোদন চূড়ান্ত হয় এই প্ল্যানিং সেলের মাধ্যমে। তাই বলাই যেতে পারে, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতাহীন এ সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতার সুযোগে অন্তত পানি উন্নয়ন বোর্ডে অস্বাভাবিক ব্যয়ের যেসব প্রকল্প প্রস্তাবনা করা হয়, তার সবটুকু দায়ভার এই প্ল্যানিং সেলের ওপর বর্তানো উচিত। কিন্তু আদৌ কোনো দায় বর্তায় কি? আর প্রকল্প প্রস্তাবনা নিয়েই যেখানে প্রশ্ন তোলা যায় না, সেখানে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন করে কোনো লাভ আছে কি?
দেশের প্রকৌশল শিক্ষার মান নিয়ে অনেক কথা আছে, যদিও তার যথোপযুক্ত কারণও বিদ্যমান। দেশের প্রকৌশল বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বের হওয়া মেধাবী সন্তানরা নিজেদের পেশায় উৎকর্ষের প্রমাণ রেখেছে—এমন একটি প্রকল্প যখন আতশকাচ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন সাধারণ মানুষ সে শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বৈকি! গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প, মনু ব্যারেজ, তিস্তা ব্যারেজ থেকে শুরু করে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন কিংবা ছোট-বড় নদী সংস্কার—কোনো প্রকল্পই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য-উদ্দেশের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি। সর্বত্র ব্যর্থতার আর দুর্নীতির বিস্তৃত সমাহার। ফলে পেশাজীবীদের যেকোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী দাবি সাধারণ মানুষকে ভীত করে তোলে। কিছুদিন আগের কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণ পেশাজীবী দাবি করেছিলেন, সরকার বিশ্বাস করলে তারা পদ্মা সেতু পর্যন্ত তৈরি করতে সক্ষম। তরুণ পেশাজীবীর এই দাবি সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। জনসাধারণ ভাবে, শুধু দেখভালের দায়িত্ব পেয়েই ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু ৩০ হাজার কোটি টাকায় শেষ করা হয়েছে, আর আমাদের পেশাজীবীরা যদি পুরো দায়িত্ব পায়, তাহলে পদ্মা সেতুর ব্যয় ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে যেত কিনা বলা কঠিন। তারপরও সে সেতুর জীবনকাল কী হবে, তা বোধ করি কেউই বলতে পারবে না।
আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, দেশের এহেন পেশাজীবীরা আবার শিক্ষা অনুযায়ী কর্মে বিশ্বাসী নন; পাইলট হয়েও তারা গরুর গাড়ি চালাতে চান। কয়েক মাস আগের কথা, সারা দেশের পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা তখন ৬ দফার দাবিতে আন্দোলনরত ছিল। এই আন্দোলনের মধ্যেই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে দাবি করা হয়েছিল—পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রথম নিযুক্তিতে যে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ পেয়ে থাকেন, যেহেতু দেশের প্রকৌশলীরা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের থেকে আরও অধিকতর শিক্ষায় শিক্ষিত সে কারণে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের জন্যও এই পদ উন্মুক্ত করা হোক। আর সরকার যে হারে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে চলেছে, তাতে অভিজাত শ্রেণির এ দাবি মানা যে সময়ের ব্যাপার মাত্র, তা তো বলাই বাহুল্য। হয়তো বিজ্ঞ প্রকৌশলীরা এর পরপরই দাবি করবেন যে, রড বাইন্ডিং, কনক্রিট মিক্সিং, এক্সাভেশন ইত্যাদির মতো কারিগরি কাজের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হোক; শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে এসব কাজ তারাই করতে সক্ষম। অথচ জাতি তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য বিএসসি প্রকৌশলী তৈরি করেছে। তাদের কাজ প্ল্যানিং, ডিজাইন এবং রিসার্চ। আর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরি করা হয়েছে বিএসসি প্রকৌশলীদের কাজের এক্সিকিউশন ও সুপারভিশন করার জন্য। কিন্তু উন্নয়ন পেশাজীবী প্রকৌশলীদের বর্তমান কার্যকলাপ দেখে মনে হয়, প্রকল্পের প্ল্যানিং ও ডিজাইনিং কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেই তারা সন্তুষ্ট নন; প্রকল্পের সকল পর্যায়ের লাভের ভাগীদার হতে চান একমাত্র তারাই। দেশের দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রচার করে থাকেন, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের ৮০-৯০ শতাংশ কাজই তত্ত্বাবধান, মেরামত ও সংস্কারের কাজ, যে শিক্ষা পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়ে থাকে। যেহেতু দেশে প্ল্যানিং, ডিজাইন এবং রিসার্চের কাজ হয় না বললেই চলে, ফলত উন্নয়ন পেশাজীবী প্রকৌশলীরা নিজেদের দায়িত্ব বাদ দিয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের এক্সিকিউশন ও সুপারভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদগুলোর দিকে হাত বাড়াবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।
বৈশ্বিক পরিসংখ্যান মতে, আমেরিকার মতো উন্নত দেশে কারিগরি কর্মক্ষেত্রে প্রকৌশলী পেশাজীবী রয়েছেন মোট পেশাজীবীর ৬ শতাংশ; আমাদের দেশেও কিন্তু তাই। কিন্তু আমাদের নীতিনির্ধারকেরা তো এই ৬ শতাংশ পেশাজীবী নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাই তারা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রকৌশল শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে পেশাজীবী প্রকৌশলীদের হার ৬০ শতাংশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হয়তো কেমন জনশক্তি দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন তা বিবেচনায় না নিয়ে, এক্সিকিউশন ও সুপারভিশনের দক্ষতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরির বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে গ্রামে গ্রামে কলেজ আর জেলায় জেলায় বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি-বেসরকারি প্রতিযোগিতাকে গতিশীল করা হচ্ছে।
আমরা হয়তো সত্যিই ভুলে গেছি, প্রতিটি কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে টিমওয়ার্কের প্রয়োজন। আবার এই টিম যদি প্রয়োজনীয় আনুপাতিক হারে না হয়, তাহলে কাজ সুচারুভাবে করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত আনুপাতিক হারে টিম তৈরি না করার ফলে আমাদের দেশের অনেক শিল্প-কারখানা লোকসানের দায়ে বন্ধ করে দিতে হয়েছে; অনেক প্রকল্প লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও দরিদ্র জনগণের করের টাকায় ব্যয়বহুল শিক্ষায় শিক্ষিত একজন পেশাজীবী প্রকৌশলীর নিম্নপদে জনসেবার বাসনাকে আমরা আমলে নিয়েছি। সামনের দিনে হয়তো আরও পরিবর্তন আসবে। তারপরও, অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী আমাদের অতীত, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের সরকার প্রাগুক্ত সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক হবে না—তা নিশ্চিত জেনেও বলতে চাই, সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই প্রকৌশল ও কারিগরি ক্ষেত্রে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। আর বর্তমান সময়ে অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজেকে রক্ষার প্রবণতা থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষা অনুসারে কর্মকে বিভাজন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিজন ব্যক্তির পদোন্নতি কর্মজীবনে তার অধিকার। কর্ম বিভাজন হলে কোনো পদোন্নতিই কারও মনোব্যথার কারণ হবে না; সবার জন্যই নিম্নপদ থেকে উচ্চপদে যাওয়ার পথ খোলা থাকবে। আমাদের নবগঠিত সরকার দেশকে সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য বহু ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। যেহেতু উন্নয়নের সিংহভাগ অর্থ প্রকৌশল ও কারিগরি কর্মক্ষেত্রের মাধ্যমে ব্যয় হয়ে থাকে, তাই এ খাতে সংস্কার নিশ্চয়ই জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে—এ বিশ্বাস রাখি। সে বিশ্বাস থেকেই প্রত্যাশা করি, শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রাগুক্ত সুপারিশগুলো সরকার ভেবে দেখবে। তাহলেই প্রতিদিনের দৈনিকে দুর্নীতির সংবাদ কিছু কমতে পারে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- দেশের উন্নয়ন
- পেশাজীবী