বনভূমি না দুর্বল সাফারি পার্ক: কোনটার দরকার বেশি?

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১০:৩২

গাজীপুর সাফারি পার্ক বানানো হয়েছিল নিরাপত্তার মধ্যে থেকে দেশি-বিদেশি পশুপাখিরা যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে। সেখানে তারা নিজেদের আবাসভূমির মতো ভালো থাকবে, ভালো খাবে ও স্বাধীনভাবে থাকবে। শালবনের বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাও ছিল উদ্দেশ্য। দেশের বিরল ও বিলুপ্ত বন্য প্রাণীকে সংরক্ষণ ও তাদের উন্নয়ন করা। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।


কিন্তু এই পার্কে যাদের বসবাস তাদের কী অবস্থা, কীভাবে বেঁচে আছে সেই ভাষাহীন প্রাণীগুলো—এই খোঁজ কি কেউ রাখছে? কে তাদের কথা বলবে? সাফারি পার্কের সার্বিক অবস্থাটা আসলে কী? যারা দর্শনার্থী, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পশুপাখি দেখতে যাচ্ছেন, তারাও পার্কের অবস্থা দেখে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে টিকিট কেটে তারা পার্কটি দেখতে আসছেন, অথচ এসে দেখছেন সব বিবর্ণ, প্রাণহীন। কোথাও কোনো যত্ন, ভালোবাসা নেই। যাদের যেভাবে থাকার কথা, তারা কেউ সেভাবে নেই।


পশুপাখি, প্রকৃতি এগুলো সবই হচ্ছে ভালোবাসার ধন। এদের ভালো না বাসলে এরা বাঁচে না। বাঁচলেও কষ্টে থাকে, অনাদরে ও অবহেলায় থাকে। আর আমাদের দেশে প্রকৃতিকে ভালোবাসে খুব অল্প কিছু মানুষ। এমনকি যারা পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারাও সবাই এদের সম্পর্কে জানেন না এবং ভালোবাসেন না। আমরা প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়নের জন্য কাজ করি। সরকার এবং জনগণ দুই পক্ষই বিশ্বাস করে উন্নয়নের জন্য বনভূমি গ্রাস করা ও ধ্বংস করা যায়। আর তাই সরকারের বন ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে বন রক্ষার বিষয়টি নাই। সেখানে নেই গাছ, পানি, বন্যপ্রাণী, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সুবিধাদির কোনো বন্দোবস্ত।


আমরা যতই জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সাফারি পার্ক ইত্যাদি নিয়ে কথা বলি না কেন, বাংলাদেশে যখন সাধারণ পশুপাখির প্রতি নির্দয় আচরণ করা হয়, বা যখন কোনো বনাঞ্চল ধ্বংস বা দখল করা হয়, তখন রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী মহল, রাজনীতিবিদ, আমলা, তারকা বা অন্য পেশাজীবীরা কেউ এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন না। কেন করেন না বা কেন চুপচাপ থাকেন, জানি না। কালেভদ্রে অপরাধীরা ধরা পড়লেও তেমনভাবে বিচার হয় না। এ ব্যাপারে আইন থাকলেও কাউকে সেভাবে শাস্তিও পেতে দেখিনি। গণমাধ্যমে সংবাদ হয়, সামাজিক মাধ্যমে কিছু হৈচৈ হয়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষকরা দুঃখ প্রকাশ করেন, বনবিভাগ তৎপর হয়—ব্যস তারপর সব শেষ।


গাজীপুর সাফারি পার্কের অবস্থা এখন অত্যন্ত খারাপ। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বাঘ ও সিংহ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করা যাবে, এমন যে দুটি রেস্তোরাঁ, সেই দুটিই বন্ধ। বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সম্পর্কে দর্শনার্থীকে বোঝানোর জন্য যে প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র, সেটিও বন্ধ। দর্শনার্থীদের জন্য বানানো দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, প্যাডেল বোটে ভ্রমণ, এগ ওয়ার্ল্ড, হাতি শো গ্যালারি, শিশুপার্ক—সবই বন্ধ। পার্কের ভেতরে কোনো স্যুভেনির শপ নেই। দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য কোনো গাইড নেই। পার্কের ভেতরটা নোংরা। একটি হুইলচেয়ার ছাড়া প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। (প্রথম আলো)


একসময় এই পার্কে প্রচুর মানুষ আসতেন। খোলা অবস্থায় পশুপাখি দেখবে—এই আনন্দে বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিল। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক প্রাণী ছিল। অনেকগুলোই মারা গেছে, আর অনেকগুলো যত্ন-আত্তির অভাবে ধুঁকছে।


দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মোট ২৫টি জেব্রা পার্কে আনা হয়েছিল। এরা নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১১টি জেব্রা ও একটি বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছিল। হইচই হয়েছিল কিন্তু তারপর সব তৎপরতা থেমে যায়। পার্কটিতে বিদেশ থেকে প্রাণী এসেছে এবং খাপ খাওয়াতে না পেরে ও যত্নের অভাবে মারাও গেছে। মারা গেছে ১২টি জিরাফ, মারা গেছে সব ক্যাঙারু, সাদা সিংহ। কী মর্মান্তিক ঘটনা। কত দূর থেকে এই প্রাণীগুলোকে খাঁচাবন্দি করে নিয়ে আসা হয়, আর ভিন দেশে এসে এরা কষ্টে প্রাণ হারায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও