রবীন্দ্রনাথে বিশ্বাস হারালে…

বিডি নিউজ ২৪ অজয় দাশগুপ্ত প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ১১:৩৮

এখন ঘোরতর রবীন্দ্র-বিরোধিতা চলছে। তাই দিনের পর দিন তরুণরা যেন তাঁকে ভুল বোঝে, অসম্মান করে—সেজন্য আদাজল খেয়ে লাগা মানুষগুলো এ লেখা না পড়লেই খুশি হব আমি।


রবীন্দ্রনাথ ছেলেবেলায় আমার বড় ধরণের উপকার করেছিলেন। আমি তখন হাই স্কুলের ছাত্র। কোনো কথাবার্তা ছাড়া আমাকে দাঁড়িয়ে করে দেওয়া হয়েছিল কবিতা পাঠ করার জন্য। রবীন্দ্রনাথের কোনো কবিতাই তখন পুরোপুরি মুখস্থ ছিল না। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি হেড স্যার ও অন্যান্য রাশভারী শিক্ষকের মুখ। অসহায়, বিপন্ন এই কিশোরের জন্য এক আবছায়ার মতো হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরপর মনে পড়ে গিয়েছিল:


“আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে


বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।


পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি,


দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।”


মনে এসে গিয়েছিল ‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে’র ভগ্নাংশ। শেষটায় ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা…’। অতঃপর পালিয়ে বাঁচা কিশোরের হাতে উঠে এসেছিল চকচকে একটি বাসন ও একখানা বই। বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।


সেই তালগাছ মনে গেঁথে ছিল। যেবার শান্তিনিকেতন গেলাম, উঠেছিলাম ‘রাতের তারা দিনের রবি’ নামের অতিথিশালায়। নামটাই কেমন কাব্যিক! সকালে গাইড এক ঝলক দেখিয়ে কাজ সেরে ফেলার মতো বলেছিলেন, “এই তালগাছগুলোই ‘তালগাছ’ কবিতার উৎস।”


মনের ভেতর ঘুরতে থাকা তালগাছ কি ঘুমাতে দেয়? দীপা তখন অঘোর ঘুমে। নিদ্রাহীন চোখে চুপিচুপি বেরিয়ে এসেছিলাম মধ্যরাতে। বাইরে হালকা শীত। নিঝুম, ‘তখন ঘুমিয়ে গেছে পাড়া’। বের হয়ে হনহন করে হেঁটে সোজা চলে গেলাম যে তালগাছ ছিল ভয়ের ও ভূতের নিবাস—যার পাতা নড়লে ভয়ে ঘুমাতাম না, তার কাছে। গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম অনেকক্ষণ।


শনশন হাওয়ায় ডানা ঝাপটানো তালের পাতা জিজ্ঞেস করছিল, কী চাও হে আগন্তুক? তার তলায় দাঁড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছিল প্রশ্ন করি—একপায়ে তো সব গাছই দাঁড়ায়, তুমি কীভাবে কাছে টানলে তাঁকে? হি হি হাসির মতো গা-ছমছমে শব্দে বাদুড় উড়ে গেল।


ফিরে তো আসতেই হবে, কিন্তু পথ তো ভুলে গিয়েছি। যে জায়গাটির নাম শান্তিনিকেতন, যেখানে রবীন্দ্রনাথ হেঁটে বেড়ান, সেখানে কি পথ হারাবে কেউ? ভোর হতে থাকা ফিকে আলোয় কানের কাছে গুনগুন করছিল এক মেয়েলি কণ্ঠ, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’... ঠিকই পথ দেখিয়েছিল এক অচেনা আলো।


এই কবি বাংলাভাষী এই দুটি অঞ্চল এবং ভারত-বহির্ভূত ভূমণ্ডলের মধ্যে আদিগন্ত একটি খণ্ডিত ইন্দ্রধনুর সাঁকো হয়ে তখন এবং এখনও বিরাজমান। পূর্ববঙ্গ ও ত্রিপুরাকে জড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ সেই কবি-মনীষীর করতলে আশ্রিত। অন্যদিকে ভূমণ্ডল, বিশেষত ইউরোপ—এই সন্ধিক্ষণে তাঁর আত্মার প্রপন্নার্তি নিয়ে তাঁরই চরণতলে আশ্রয় খুঁজছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও