ধানের সঙ্গে খড়ও গেছে হাওরের কৃষকের, গোখাদ্য নিয়ে শঙ্কা
সুনামগঞ্জের শাল্লার উদগল হাওর পাড়ের কৃষাণি ছায়া রানী দাস ছেলেদের নিয়ে বাড়ির কৃষিকাজ নিজেই সামলান। এবার তার পরিবার হাওরে প্রায় ২৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করে।
বৈশাখের প্রথম সপ্তাহের পর তিনি কিছু পাকা ধান কাটতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় সপ্তাহেই শুরু হয় টানা বৃষ্টি; যেন শনি নেমে আসে তাদের পাকা ধানের ওপর। এতে হাওরে থাকা বাকি ধান তলিয়ে যায়।
এ ছাড়া যে ধান তিনি কেটেছিলেন সেগুলোরও কিছুটা রোদে শুকাতে না পারায় অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়েছে। এর সঙ্গে নষ্ট হয়েছে ধানের খড়।
ছায়া রানীর ভাষায়, ধান হারানোর পর খড় হারানো যেন অনেকটাই ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।
তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন, “আমার তিন পুত (ছেলে) আর আটটা গরু। মাত্র পাঁচ কিয়ার (৩০ শতাংশে ১ কিয়ার, ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা) ধান কাটছি। আর ২২ কিয়ার নষ্ট অইছে। পাঁচ কিয়ারের খেড়ও পুরা নষ্ট অইছে। ধানও অর্ধেক নষ্ট।”
আটটি গরু নিয়ে কীভাবে বছর পার করবেন সেই দুশ্চিন্তাই এখন কৃষাণি ছায়া রানীর।
সুনামগঞ্জের হাওরের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক বলছেন, পানির নিচ থেকে ধান কাটার চিন্তা তারা এখন বাদ দিয়েছেন। তাদের চেষ্টা অঙ্কুর গজিয়ে ওঠা ধান রোদে শুকিয়ে কিছুটা খাদ্য উপযোগী করার আর গোখাদ্য হিসেবে খড় বাঁচানোর।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- পশু খাদ্য
- বৃষ্টিতে নষ্ট