সামর্থ্য বাড়াতে হবে

যুগান্তর মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ১২:০২

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি এখন টক অব দ্য টাউন। অভিযোগ আছে, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে তড়িঘড়ি করে এ চুক্তি সম্পাদন করে দেশকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হবে এবং বাংলাদেশ তার স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকার নিজের গা বাঁচাতে বলেছে, চুক্তি সই করার আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে এ চুক্তি নিয়ে আলাপ হয়েছে এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই চুক্তি সই করা হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে। সাধারণ নাগরিকরা ধন্দে পড়ে গেছেন। দেশের বড় দুই দল যদি এ ব্যাপারে একমত হয়ে থাকে, তাহলে তারা কি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে? দেশের দেখভাল করার দায়িত্ব তো তাদেরই?


একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার। এ চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বেশ উদ্যোগী ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অসমতা ও ঘাটতি নিয়ে অনেকদিন ধরেই সোচ্চার ছিল। তারা যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে দেশগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অভিঘাত হতে পারত বিপুল। পরে একটা সমঝোতা হয়। শুল্কহার নেমে আসে; কিন্তু বিনিময়ে এমন কিছু শর্তে সায় দিতে হয়, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে আমাদের অর্থনীতিতে।


আমাদের সরকারের কর্তারা একটু একটু করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। কেউ বলছেন, এ চুক্তি আগের সরকার করেছে, তার দায় এসে পড়েছে বর্তমান সরকারের ওপর। কেউ বলছেন, এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশও লাভবান হবে। নাগরিকরা এতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। ইতোমধ্যে আমরা নাগরিক সমাজ ও কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছি। এ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ, বিবৃতি, মানববন্ধন-সবই হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি একটি গোলামির চুক্তি। প্রশ্ন হলো, ‘দেশবিরোধী’ এ চুক্তি আমরা কেন করেছি? নাকি আমরা এ চুক্তি সই করতে বাধ্য হয়েছি?


এ চুক্তি সই না করলে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য নানা বিধিনিষেধের মধ্যে পড়ত বলে আশঙ্কা ছিল। আমাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটা বড় অংশের গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত হলো জনশক্তি এবং তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ। চীন এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে বাংলাদেশকে এ অবস্থানে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশ চায় না, এ অবস্থানে কোনো হেরফের হোক। এছাড়া, বাংলাদেশে গার্মেন্টস লবি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে খুবই শক্তিশালী। এ লবি যা চায়, সেটি পেয়ে যায়।


বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রেখেছে বিদেশ থেকে আমাদের লোকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আমাদের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দেনার একটা বড় অংশ এ রেমিট্যান্স দিয়ে মেটানো হয়। আমদানি ব্যয় যত বাড়ছে, ঋণ যত ঊর্ধমুখী হচ্ছে, রেমিট্যান্সের চাহিদা তত বাড়ছে। কোন মাসে কত রেমিট্যন্স এলো, সেটি আগের বছরের ওই মাসের চেয়ে কম না বেশি, এটি আমাদের সংবাদ শিরোনাম হয় নিয়মিত। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুই বা তিন নম্বরে। এটি কোনো হেলাফেলার বিষয় নয়। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে চটাতে গিয়ে দুবার ভাববে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও