স্থায়ী অভিবাসীরাও কেন পাঠান রেমিট্যান্স

যুগান্তর ড. হাসান মাহমুদ প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৫০

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার একটি প্রধান উৎস নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির রক্তস্রোত, দারিদ্র্য হ্রাসের একটি কার্যকর হাতিয়ার এবং অসংখ্য পরিবারের জীবিকা নির্বাহের ভিত্তি। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ অর্থপ্রবাহকে আমরা এখনো অনেকাংশে একটি সরলীকৃত ধারণার মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছি-যে ধারণা বলে, যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বিদেশে থাকে, তারাই বেশি রেমিট্যান্স পাঠায়; আর যারা পরিবারসহ বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, তারা ধীরে ধীরে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং রেমিট্যান্স কমিয়ে দেয়।


এ ধারণাটি আংশিক সত্য হলেও বাস্তবতার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেয় না। বরং এটি আমাদের দৃষ্টি আড়াল করে একটি গভীরতর বাস্তবতা থেকে-যে বাস্তবতায় দেখা যায়, পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে (উদাহরণ হিসেবে) স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসীরাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? যদি তাদের পরিবার আর বাংলাদেশে না থাকে, তাহলে কি তাদের রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করে?


প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা


এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে যেতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্সকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ‘New economics of labor migration’ বা NELM তত্ত্বের মাধ্যমে; যেখানে অভিবাসনকে একটি পারিবারিক বিনিয়োগ হিসাবে দেখা হয় এবং রেমিট্যান্সকে সেই বিনিয়োগের প্রতিদান হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু এ ব্যাখ্যা বাস্তব অভিজ্ঞতার অনেক দিককে উপেক্ষা করে।


এ তত্ত্ব পরিবারকে একটি একক ও ঐক্যবদ্ধ সত্তা হিসাবে ধরে নেয়, যেখানে দ্বন্দ্ব নেই, সম্পর্কের পরিবর্তন নেই এবং আবেগের কোনো স্থান নেই। অথচ বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং সম্পর্কের পরিবর্তনকে উপেক্ষা করলে রেমিট্যান্সের প্রকৃত কারণ বোঝা যায় না।


‘Belonging’ : রেমিট্যান্স বোঝার মূল চাবিকাঠি


বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনে রেমিট্যান্স কোনো ‘চুক্তিভিত্তিক লেনদেন’ নয়; এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব, একটি সাংস্কৃতিক চর্চা এবং একটি সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যম। তারা রেমিট্যান্স পাঠান, কারণ তারা এখনো নিজেদের সেই পরিবারের অংশ হিসাবে দেখেন, যেখান থেকে তারা এসেছেন।


এ অনুভূতিকে বোঝার জন্য ‘belonging’ বা অন্তর্ভুক্তির ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার পিএইচডি গবেষণাগ্রন্থ Remittance as belonging: global migration, Transnationalism, and the quest for home-এ অন্তর্ভুক্তির ধারণাটিকে কেন্দ্রীয় বিশ্লেষণাত্মক ফ্রেমওয়ার্ক হিসাবে নিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের রেমিট্যান্সকে বিশ্লেষণ করেছি। এ গবেষণার আলোকেই আমি ব্যাখ্যা করছি স্থায়ী অভিবাসীরা কী কী আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হয়।


অভিবাসীদের জন্য ‘বাড়ি’ শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়; এটি একটি অভিজ্ঞতা, একটি সম্পর্কের জাল, একটি স্মৃতি এবং একটি পরিচয়ের উৎস। একজন অভিবাসী একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ‘অন্তর্ভুক্ত’ থাকতে পারে-যুক্তরাষ্ট্রে তার বর্তমান জীবন এবং বাংলাদেশে তার শিকড়।


নৈতিক অর্থনীতি ও পারিবারিক দায়িত্ব


বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এ অন্তর্ভুক্তি বহুমাত্রিক। তারা একসঙ্গে তাদের পিতামাতার পরিবার, নিজেদের নিউক্লিয়ার পরিবার, ভাইবোনদের নিয়ে গঠিত যৌথ পরিবার, সম্প্রসারিত আত্মীয়গোষ্ঠী এবং এমনকি পুরো গ্রাম বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। ফলে রেমিট্যান্সও একরৈখিক নয়; এটি বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এবং বিভিন্ন অর্থবহ প্রেক্ষাপটে ঘটে।


সবচেয়ে বড় বিষয় হলো-রেমিট্যান্স এখানে অর্থনৈতিক যুক্তির চেয়ে বেশি ‘নৈতিক অর্থনীতি’র অংশ। বাংলাদেশি সমাজে সন্তানদের, বিশেষ করে ছেলেদের, পরিবারের প্রতি আর্থিক দায়িত্ব পালন একটি গভীরভাবে প্রোথিত সামাজিক মূল্যবোধ। অভিবাসীরা এ মূল্যবোধ নিয়ে বিদেশে যায় এবং সেটিকে বজায় রাখে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও