জোড়াতালি নয়, হামে শিশুমৃত্যু রোধে প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান

ঢাকা পোষ্ট সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩

হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আগে শিশু টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য ছিল আমাদের জাতীয় গর্ব। এই সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত ও স্বীকৃত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আজ সেই দেশেই প্রতিদিন হামের উপসর্গে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। পরিসংখ্যান এখানে কেবল সংখ্যা নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আর এক অপূরণীয় শূন্যতা।


হামের প্রাদুর্ভাবের পর দ্রুত টিকা ক্রয় এবং দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিসহ সরকার যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, এগুলো যেন কেবল সাময়িক বা আপদকালীন সমাধান না হয়; বরং একে একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।


একটি কার্যকর স্থায়ী সমাধানের জন্য টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় থেকে শুরু করে পরিবহন, কোল্ড-স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা, সঠিক সময়ে টিকাদান এবং পূর্ণ ডোজ নিশ্চিত করাসহ পুরো ‘ইকো-সিস্টেম’ সর্বদা প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য।


এই ইকো-সিস্টেমের যেকোনো পর্যায়ে সমস্যা যেমন টিকা ও সিরিঞ্জের ঘাটতি, জনবল সংকট, মাঠকর্মীদের অসন্তোষ কিংবা নিবিড় তদারকি ও সজাগ দৃষ্টির অভাব পুরো কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে টিকার সুফল সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও, টিকাদানে সামান্য ঘাটতি বা অবহেলার ভয়াবহ পরিণাম আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী হামের উপসর্গ নিয়ে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু, ৩২ হাজারের বেশি শিশুর হাসপাতালে ভর্তি, পরিবারের চরম উৎকণ্ঠা, আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে সেই ঘাটতিগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে।


জনস্বাস্থ্যের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যে দপ্তরের তদারকি করার কথা, সেই ইপিআই দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। তাই এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সবার আগে ইপিআই ইউনিট একজন নিয়মিত ডিরেক্টরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লোকবলের সমন্বয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন।


বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের অধীনে একজন উপ-পরিচালক ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় এটি প্রথমে ইএসপি এবং পরবর্তীতে এমএনসিএএইচ অপারেশন প্ল্যানের অধীনে একজন লাইন ডিরেক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।


স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করে যদি একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়, তবে ইপিআই-এর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা বিবেচনায় এর জন্য একজন ‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’ পদ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে।


শিশু টিকাদান প্রক্রিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষায় ১২ মাসের সাথে অতিরিক্ত ৩ মাসের প্রোভিশন রেখে প্রতি বছর ১৫ মাসের জন্য যে পরিমাণ টিকা দরকার তা কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে অর্থ বছরের শুরুতে ক্রয় প্রক্রিয়া অনুমোদনসহ যে সময় লাগে, সে সময়কালীন টিকার স্টক নিশ্চিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অপারেটিং বাজেট থেকে টিকা ক্রয়ের যে ব্যবস্থা চালু হয়েছে তা অব্যাহত রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের বরাদ্দ দিতে হবে।


এছাড়া টিকাদান কর্মী এবং টিকাদানের সাথে জড়িত টেকনোলজিস্টসহ সব শূন্য পদ দ্রুত এবং নিয়মিতভাবে পূরণ করতে হবে। তবে পরিবার পরিকল্পনা ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একত্রিত করলে যে নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি হবে, সে অনুযায়ী সব পদ পূরণ করতে হবে। তাছাড়া টিকাদান কর্মী ও টেকনোলজিস্টদের নিয়মিত ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ পারফরম্যান্স-বেসড প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে।


হার্ড ইমিউনিটি রক্ষার্থে প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং সিটি কর্পোরেশনে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ ডোজে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য কমিউনিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্মকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। যে এলাকায় ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু পূর্ণাঙ্গ ডোজে টিকা নেবে, সে এলাকার কমিউনিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সিভিল সোসাইটি প্ল্যাটফর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও