যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি: জাতীয় স্বার্থ ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের পর্যালোচনা

বিডি নিউজ ২৪ ড. মঞ্জুরে খোদা প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৩

নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে প্রাথমিক শোরগোল একটু থিতিয়ে এলেও এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মরণফাঁদগুলো ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক মহাপরিকল্পনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে। অথচ একটি আদর্শ বাণিজ্য চুক্তির মূল শর্ত হওয়া উচিত পারস্পরিক সুবিধা ও সমতা, কিন্তু এই চুক্তির পাতায় পাতায় সেই নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয়।


বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী, বাণিজ্য চুক্তিকে দেশের শিল্প, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিপোষক হতে হয়। কিন্তু যখন একটি চুক্তি এর বাইরে গিয়ে একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে, তখন তাকে আর স্বাভাবিক বাণিজ্য চুক্তি বলা যায় না।


১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির সময় এবং প্রক্রিয়া উভয়ই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চুক্তিটির শর্তাবলি এবং এর ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে সরকারের মধ্যে ও বাইরে তীব্র মতবিরোধ ও ক্ষোভ বিদ্যমান।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জোট-নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য


স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই মূলনীতি অনুসরণ করে এসেছে। জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের একটি সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন পরাশক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেছে। এই নীতির সুফল হিসেবে বাংলাদেশ একই সময়ে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—সবার সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক রক্ষা করতে পেরেছে।


‘বাংলাদেশ এতদিন বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক; রপ্তানি বাজার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা—এই দ্বিমুখী বাস্তবতার মধ্যেই আমাদের কূটনীতি গড়ে উঠেছে।’ বর্তমান বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলির মাধ্যমে এই ভারসাম্যকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।


বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলি ও বিধিনিষেধ


এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ করা হয়েছে, যা সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে:


১. বাংলাদেশকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে। বিমান কর্তৃপক্ষকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে মার্কিন বোয়িংকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে। ২. আগামী ১৫ বছরে ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের তেল মার্কিন উৎস থেকে কিনতে হবে। ৩. প্রতি বছর ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কৃষিপণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হবে। ৪. মার্কিন সামরিক পণ্য ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। ৫. কিছু নির্দিষ্ট দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় সীমিত রাখতে হবে। ৬. মার্কিন পণ্যে কোনো কোটা আরোপ করা যাবে না এবং অশুল্ক বাধা (Non-Tariff Barriers) দূর করতে হবে। ৭. মার্কিন পণ্যের সঙ্গে দেশীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় সুবিধাজনক অবস্থায় না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৮. দেশীয় শিল্পে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া সীমিত বা বাতিল করতে হতে পারে, যার ফলে গার্মেন্টস, কৃষি ও পোলট্রি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৯. যুক্তরাষ্ট্রের সুতা ও তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাকে পাল্টা শুল্ক না বসানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ১০. ৬,২১০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। ১১. মার্কিন পণ্যের মান ও মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে, যদিও তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করুক বা না করুক।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও