কিছুতেই সঞ্চয় করতে পারছেন না, কী করবেন

জাগো নিউজ ২৪ সাইফুল হোসেন প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪১

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির এই চরম মুহূর্তে সঞ্চয় করা যেন এক অসাধ্য সাধনে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মাসের শেষে গিয়ে দেখেন যে তাদের আয়ের পুরোটা খরচ হয়ে গেছে এবং অনেকের ক্ষেত্রে ঋণের বোঝাও বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কেন কিছুতেই সঞ্চয় করতে পারছি না? সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা সানেমের ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, উচ্চমূল্যের বাজারে মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় প্রায় ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।


এই অবস্থায় সঞ্চয় করতে না পারা কেবল অলসতা নয়, বরং এর পেছনে কাজ করছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোবদ্ধ সংকট। প্রখ্যাত বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট একবার বলেছিলেন, "খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় করবেন না, বরং সঞ্চয় করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা খরচ করুন।" এই একটি উক্তিই সঞ্চয়ের মূল দর্শনকে ব্যাখ্যা করে। আমরা সাধারণত মাস শেষে যা বাঁচে তা জমানোর চেষ্টা করি, কিন্তু আধুনিক ভোগবাদী সমাজে মাস শেষে আসলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।


সঞ্চয় করতে না পারার প্রধান কারণ হলো আমাদের অবদমিত আবেগ এবং বিজ্ঞাপনের প্রলোভন। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে প্রতিটি স্মার্টফোন স্ক্রিন আমাদের বলছে কিছু না কিছু কিনতে। এই 'ইন্সট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন' বা তাৎক্ষণিক তৃপ্তির নেশা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। ড্যান আরিয়েলির মতো আচরণগত অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, মানুষ যখন ডিজিটাল পেমেন্ট বা কার্ড ব্যবহার করে, তখন তার মস্তিষ্ক টাকা ব্যয়ের প্রকৃত বেদনা অনুভব করে না।


ফলে আমরা অবচেতনভাবেই সীমার বাইরে খরচ করে ফেলি। বর্তমানে বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের আয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ চলে যাচ্ছে কেবল খাদ্য ও বাসস্থানের পেছনে। এর ওপর রয়েছে চিকিৎসা ও শিক্ষার আকাশচুম্বী খরচ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আগামী কয়েক বছর অব্যাহত থাকবে। এই রূঢ় বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সঞ্চয় করা মানে কেবল টাকা জমানো নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মতো।


সঞ্চয় শুরু করার প্রথম ধাপ হলো নিজের জীবনযাত্রার মান নিয়ে সৎ হওয়া। আমরা অনেক সময় সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে এমন সব খরচ করি যা আমাদের সাধ্যের বাইরে। একে বলা হয় 'লাইফস্টাইল ক্রিপ'। আয় বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চাহিদাও বেড়ে যায়, ফলে সঞ্চয়ের হার আর বাড়ে না। যারা কিছুতেই সঞ্চয় করতে পারছেন না, তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো অটোমেশন। অর্থাৎ মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।


এটি আপনাকে বাধ্য করবে অবশিষ্ট টাকায় মাস পার করতে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস সঞ্চয়কে দেখতেন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি বিমা হিসেবে। বর্তমানের এই ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় হাতের নগদ টাকাই হবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি আপনার হাতে অন্তত ছয় মাসের জীবনযাত্রার ব্যয় সমপরিমাণ 'ইমার্জেন্সি ফান্ড' না থাকে, তবে আপনি যেকোনো ছোটখাটো দুর্যোগেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।


অনেকে মনে করেন অল্প টাকা জমিয়ে কী হবে? কিন্তু চক্রবৃদ্ধি মুনাফা বা 'পাওয়ার অব কম্পাউন্ডিং' এর জাদু বুঝতে পারলে আপনি অবাক হবেন। আইনস্টাইন একে বলেছিলেন বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য। প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা জমানোও দীর্ঘমেয়াদে আপনার জন্য বিশাল এক পাহাড় তৈরি করতে পারে। সঞ্চয় করতে না পারার আরেকটি বড় কারণ হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খরচের হিসাব না রাখা। প্রতিদিনের এক কাপ অপ্রয়োজনীয় কফি বা ছোটখাটো অনলাইন শপিং মাস শেষে একটি বিশাল অংকের ঘাটতি তৈরি করে। আপনি যদি আপনার খরচের খতিয়ান অন্তত এক মাস লিখে রাখেন, তবে দেখবেন আপনার আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ এমন সব জায়গায় খরচ হচ্ছে যার কোনো প্রকৃত উপযোগিতা নেই। বর্তমানের এই টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে সঞ্চয় মানে কেবল কৃপণতা নয়, এটি হলো এক ধরনের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও