ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পথে মেট্রোরেল করবে সরকার, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে চাইছে বর্তমান সরকার। অনেক বেশি ব্যয় প্রস্তাব করায় অন্তর্বর্তী সরকার ঠিকাদার নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নতুন পথটিতে মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি ঠিকাদারেরা কিলোমিটারপ্রতি যে টাকা চাইছে, তা সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঠিকাদারদের ব্যয় প্রস্তাব ধরে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, প্রতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সরকার ধরেছিল, ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তিনি বিভিন্ন দেশের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ঢাকার নতুন মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ডিএমটিসিএল তখন সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকাকে চিঠি দিয়ে জানায়, ঠিকাদারের দর গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানে আগ্রহী।
যদিও এই প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা জাইকা তাতে রাজি হয়নি। জাইকা জানায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা তাদের ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটকে যায়।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদকেও।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাইকার প্রতিনিধিরা সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রবিউল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর মেট্রোরেলের লাইন-১–এর কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জাইকার সঙ্গে আলোচনার নির্দেশনা দেয় সড়ক মন্ত্রণালয়।