‘ধারণার চেয়েও বেশি গতিতে’ দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত
আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেই আশঙ্কা আগের চেয়ে ‘অনেক বেশি বেড়েছে’ বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো এ মহাসাগরের স্রোতের গতি ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আভাস দিয়েছিল, সেগুলোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
নতুন এই তথ্যকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ আটলান্টিকের স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকার জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে।
গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন’ বা ‘অ্যামোক’ হলো বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ব্যবস্থা যে ১ হাজার ৬০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেটি আগে থেকেই জানা। ২০২১ সালে এর চরম বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অতীতেও এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে বলেও তারা জানেন।
বিশ্ব জলবায়ু ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ ‘অ্যামোক’ বিষুবীয় অঞ্চলের সূর্যের তাপে উষ্ণ হওয়া পানিকে ইউরোপ ও সুমেরু অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেই পানি শীতল হয়ে সমুদ্র তলদেশে গিয়ে গভীর ফিরতি স্রোত তৈরি করে। এই ‘অ্যামোক’ ভেঙে পড়লে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টিপাত বলয়টির জায়গা পরিবর্তন হবে, যে বলয়ের ফলে কয়েক কোটি মানষের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়ে থাকে। ফলে স্রোত থেমে গেলে পশ্চিম ইউরোপে শীতকালে আরও কঠিন ঠান্ডা আর গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ খরা হবে। সেইসঙ্গে আটলান্টিক মহাসাগর সংলগ্ন এলাকায় ক্রমবর্ধমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে যাবে।
- ট্যাগ:
- আন্তর্জাতিক
- জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি