সাতসকালেই কোন দুর্দিনের পূর্বাভাস
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলার ইতি টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন নির্বাচিত সরকারও দুই মাসে পা রাখতে যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত শপথকক্ষে দুই ভাগে শপথ নিয়েছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার খবরে দেশের সংবাদমাধ্যমে কত রকমের বিশেষণই না ব্যবহৃত হয়েছিল! তুলে ধরা হয়েছিল কতই না আশাবাদ! নতুন সরকার গঠনের পর কয়েক দিন সরকারপ্রধানের ট্রাফিক নিয়ম মেনে অফিসে যাতায়াত এবং সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই এমনকি ছুটির দিনেও অফিসে যাওয়া ইত্যাদি কিছু ঘটনার লাইভ টেলিকাস্টও হয়েছে। আমাদের তখন মনেও পড়েনি আশির দশকে এক সামরিক স্বৈরশাসকের সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার দৃশ্যের কথা।
সরকার গড়ার ১০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ১৪ মার্চ আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ দেওয়া হয় নতুন প্রশাসক, যাঁদের সবাই বিএনপির নেতা। এর পরদিন অর্থাৎ ১৫ মার্চ দেশের ৪২ জেলা পরিষদেও নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া এই প্রশাসকদের মধ্যে অন্তত আটজন আছেন, যাঁরা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁদের কেউ দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, কেউ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যরাও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। ৩১ মার্চ আরও ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরাও সবাই দলীয় নেতা। প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- অন্তর্বর্তী সরকার