মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম: বাংলাদেশি নাবিক
‘বেলা ১১টার দিকে দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজ কেঁপে ওঠে। দ্রুত লাইফ জ্যাকেট পরে ইঞ্জিনকক্ষে ছুটে যাই। দেখি, সেখানে সব ঠিক আছে। এরপর দৌড়ে ওপরে ডেকে উঠে দেখি, ক্রেনের নিচে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তখনই বুঝতে পারি মিসাইল আক্রমণের শিকার হয়েছে জাহাজটি। দেরি না করে নিজেদের নিরাপদ করতে সবাই জাহাজের ওপরে অ্যাকোমডেশন কক্ষে ঢুকে পড়ি। এর পরপরই আমাদের পেছনে আরেকটি মিসাইল আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেঁচে যাই। তবে নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
আরব সাগরে পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি গোল্ড অটাম’ জাহাজে মিসাইল হামলার শুরুর মুহূর্ত এভাবেই প্রথম আলোকে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আগের দিন, গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি। চীনের সাংহাই থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি ওমানের সোহার বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। তখন সেটি আরব সাগরে, গন্তব্যবন্দর থেকে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। জাহাজটিতে এহসান সাবরিসহ বাংলাদেশের ৬ জন, চীনের ১১, ইন্দোনেশিয়ার ৩ এবং মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের ১ জন করে নাবিক ছিলেন।
কক্সবাজার সদরের বাসিন্দা এহসান সাবরি রিহাদ ১০ মাস আগে ইঞ্জিন ক্যাডেট হিসেবে এই জাহাজে যোগ দিয়েছিলেন। কর্মজীবনের প্রথম সমুদ্রযাত্রা শেষ না হতে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি। তবে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের বাইরে আরব সাগরে থাকা অবস্থায় কারা জাহাজটিতে হামলা করল, তা এখনো বুঝে ওঠতে পারেননি নাবিকেরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর এলাকা যুদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হোয়াটসঅ্যাপে এহসান সাবরি বলেন, ‘অ্যাকোমডেশন কক্ষে ঢোকার পরও জাহাজে একের পর এক আঘাতের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কয়েকটি আঘাতের পর জাহাজের চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সবশেষ আঘাতে জাহাজের এক পাশে গর্ত তৈরি হয় এবং মূল ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর হামলা থেমে যায়।’
এহসান সাবরির ভাষ্য, জাহাজের পেছনের ডেক ছাড়া মোটামুটি সব অংশেই তখন আগুন জ্বলছিল। ডেকে পণ্য হিসেবে বড় বাস ছিল, যেগুলো আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। নাবিকেরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সবাই জাহাজের পেছনের ডেকে জড়ো হন। একই সঙ্গে ইঞ্জিন সচল করার চেষ্টাও চলতে থাকে। কিন্তু বেলা একটা পর্যন্ত চেষ্টা করেও ইঞ্জিন চালু করা যায়নি।