জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের এক মাস: এখনও ভয়, উৎকণ্ঠা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য’ জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রশাসনের ‘নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ পর পেরিয়েছে এক মাস।
গত ৯ মার্চ যৌথবাহিনীর ওই অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ১২ জনকে আটকের তথ্য দিয়েছিল জেলা পুলিশ। কিন্তু সরকারি জমি বিক্রি, পাহাড় কাটা, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজিসহ সেখানকার যাবতীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইয়াছিন রয়ে গেছেন অধরা।
অভিযানের পর থেকে জঙ্গল ছলিমপুরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা প্রশাসন বললেও স্থানীয়রা বলছেন উল্টো। তাদের দাবি, এখনও ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ রয়ে গেছে দখলদারদের হাতে। ফলে প্রশাসন যতই বলুক ছলিমপুরে সন্ত্রাসীরা আর নেই, তবু ভয় ও উৎকণ্ঠা তাদের পিছু ছাড়ছে না।
বিশেষ করে আলীনগরে অভিযানের এক মাস পরও ইয়াছিন বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকার কেউ সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গল ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা কয়েকটি ‘সমাজে’ বিভিক্ত হয়ে একাধিক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে আলীনগরের ‘রাজা’ এখনো ইয়াছিন। এলাকার ‘অদৃশ্য’ নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে র্যাব সদস্য হত্যা মামলার এই প্রধান আসামির হাতে।
গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে অভিযানে যায় জঙ্গল ছলিমপুরে। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।