অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত

যুগান্তর ড. মো. রুহুল আমিন সরকার প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬

একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পায়ন বা বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; বরং এর গভীরে নিহিত থাকে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। উন্নয়ন অর্থনীতির নোবেলবিজয়ী চিন্তাবিদ অমর্ত্য সেন তার বিখ্যাত Capability Approach তত্ত্বে (প্রধানত ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ Development as Freedom) দেখিয়েছেন, উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তিনি যুক্তি দেন, নিরাপত্তাহীনতা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে; ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।


প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ডগলাস নর্থ তার ১৯৯০ সালের গ্রন্থ Institutions, Institutional Change and Economic Performance-এ দেখিয়েছেন, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আইনের শাসন নিশ্চিত হলে লেনদেন ব্যয় কমে, চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত Rethinking the Role of the State in Development-সহ বিভিন্ন লেখায় প্রফেসর রেহমান সোবহান দেখিয়েছেন, উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক নীতি নয়, বরং কার্যকর রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ায়।


অন্যদিকে গানার মিরডেল তার বিখ্যাত গ্রন্থ Asian Drama: An Inquiry into the Poverty of Nations-এ ‘Soft State’ ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে আইন প্রয়োগ দুর্বল, সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তার মতে, আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকলে উন্নয়নের সুফল সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছায় না।


অপরাধ তত্ত্বের ক্ষেত্রে ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত গেরি বেকার তার বিখ্যাত প্রবন্ধ Crime and Punishment: An Economic Approach-এ দেখিয়েছেন, অপরাধ একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত, যেখানে ব্যক্তি লাভ ও ক্ষতির তুলনা করে অপরাধে জড়ায়। যদি শাস্তির সম্ভাবনা কম হয়, তাহলে অপরাধ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


একইভাবে ১৯৩৮ সালে রবার্ট কে মারটন তার বিখ্যাত প্রবন্ধ Social Structure and Anomie-তে Strain Theory-এর ব্যাখ্যা করেন। তিনি প্রমাণ করেন, সামাজিক কাঠামোর অসামঞ্জস্য-বিশেষ করে লক্ষ্য ও সুযোগের মধ্যে বৈষম্য-মানুষকে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতির দিকে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


আধুনিক উন্নয়ন অর্থনীতির দুজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ ড্যারন অ্যাসেমোগলু এবং জেমস এ. রবিনসনের ‘Why Nations Fail: The Origin of Power, Prosperity and Property’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। এ গ্রন্থে তারা ‘Inclusive Institutions’ তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন; দেখিয়েছেন, যেসব দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত, সেসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়। অন্যদিকে যেখানে আইনশৃঙ্খলা দুর্বল, সেখানে ‘Extractive Institutions’ গড়ে ওঠে, যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।


সংঘাত ও উন্নয়ন নিয়ে ২০০৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘The Bottom Billion: Why the Poorest Countries Are Failing and What can be Done About’-এ পল কলিয়ার দেখিয়েছেন, সহিংসতা ও দুর্বল আইনশৃঙ্খলা একটি দেশকে ‘conflict trap’-এ আটকে রাখে। এখানে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাহীনতা বিনিয়োগ কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থবিরতা সৃষ্টি করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও