খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমির সুরক্ষা দরকার

কালের কণ্ঠ ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০

ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার সীমিত করাই এই অধ্যাদেশ জারির মূল উদ্দেশ্য। এতে দেশে বিদ্যমান কৃষিজমির ৮০ শতাংশ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।


কৃষিজমিতে ঘরবাড়ি, শিল্প-কারখানা বা রাস্তাঘাট তৈরির আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া জমির ব্যবহার পরিবর্তন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমির পরিকল্পিত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।


অধ্যাদেশ অনুসারে অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।


কৃষিভূমির জলাধার বা জলাভূমিতে অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি, পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পারের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে।


বাংলাদেশে কৃষিজমির সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে অতীতেও অনেক আইন এবং নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প-কারখানা ও বসতবাড়ি নির্মাণ রোধ করে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এসবের তেমন বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়তই কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে দ্রুত চাষযোগ্য জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। জনপ্রতি কৃষিজমির প্রাপ্যতা কমছে। 


দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য তা হুমকিস্বরূপ বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে চাষাধীন জমির পরিমাণ কম। মোট এক কোটি ৮৬ লাখ একর বা ৭৫ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর। জনপ্রতি প্রাপ্যতা মাত্র ১১ শতক বা এক বিঘার এক-তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে সারা বিশ্বে কৃষিজমির জনপ্রতি গড় প্রাপ্ততা তিন একর। বাংলাদেশে জনপ্রতি প্রাপ্ত এই সামান্য পরিমাণ কৃষিজমিটুকু দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৮৩-৮৪ সালে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯২০ লাখ হেক্টর। ১৯৯৬ সালে তা ৮২ লাখ, ২০০৮ সালে ৭৭ লাখ এবং ২০১৯ সালে তা ৭৫ লাখ হেক্টরে হ্রাস পায়। শতকরা হিসাবে আবাদি জমি হ্রাসের গড়হার ছিল ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ০.৯৬ শতাংশ, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ০.৫২ শতাংশ, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ০.২২ শতাংশ এবং ১৯৮৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ০.৫৮ শতাংশ। ১৯৮০ সালে কৃষিজমির পরিমাণ ছিল মোট জমির ৬৫.৬৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা ৫৯.২৮ শতাংশে হ্রাস পায়। ১৯৮৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ৪৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর এবং দৈনিক ১৩৩ হেক্টর কৃষিজমি আবাদের বাইরে চলে গেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়ার মাত্রা কিছুটা কমে বার্ষিক গড়ে ২০ হাজার এবং দৈনিক ৫৪.৭৯ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এভাবে কৃষিজমি হ্রাসের প্রধান কারণ হলো শিল্পায়ন, নগরায়ণ, নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ, নতুন বসতবাড়ি স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ইটভাটা স্থাপন, নদীভাঙন ইত্যাদি। সম্প্রতি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে কৃষিজমি হ্রাসের প্রবণতা কিছুটা কমে আসছে। কিন্তু তা এখনো উদ্বেগজনক ও শঙ্কাপূর্ণ। ভবিষ্যতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষিজমি অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে হবে। বিশেষ করে তিন ও দুই ফসলি জমি কোনোক্রমেই অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না। একফসলি জমি অন্য খাতে ব্যবহার করতে হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ বিষয়ে বর্তমানে জারি করা অধ্যাদেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও