ভর্তি পদ্ধতি: লটারি না পরীক্ষা
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আবারও ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই সিদ্ধান্তটি কি আরও কিছুটা সময় নিয়ে, বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে নেওয়া যেত না? ২০২০ সালে যখন করোনা ছড়িয়ে পড়েছিল, স্থবির হয়ে পড়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম, তখন অনেকটা উপায়ান্তর না দেখে তৎকালীন সরকারের শিক্ষা বিভাগ স্কুলগুলোর ভর্তি কার্যক্রমে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল।
সময়ের প্রয়োজনে সে সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে সে সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতামত থাকলেও সরকার সিদ্ধান্তটিকে তুলনামূলক ভালো বিবেচনায় রেখে দেয়। এভাবেই পরবর্তী বছরগুলোতে লটারি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন আমলে প্রশ্নটি আবারও সামনে আসে এবং পক্ষে-বিপক্ষের আলোচনা শেষে লটারি পদ্ধতিটিকেই অন্তর্বর্তী সরকারও বহাল রাখে।
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর আমরা আবারও ফিরে পেলাম রাজনৈতিক সরকার। সব সরকারেরই একটা নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে, যার ভিত্তিতে তারা পলিসি নির্ধারণ করে। নতুন সরকারও তাদের পলিসি মোতাবেক সবকিছু নির্ধারণ করবে—এমনটিই স্বাভাবিক, যেমনটি হয়েছে অতীতে। অতীত বাস্তবতায় দেখা গেছে, সব সরকারই অনেকটা তড়িঘড়ি করে নতুন নতুন শিক্ষাক্রম, শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেছে। ফলে অতীতের অনেক সিদ্ধান্তই কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার অন্তত ব্যতিক্রম হবে, এমনটাই মানুষের প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে যখন লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচটি এ বছরই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে, তখন তাদের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই নীতিগত পরিবর্তন কতটা যৌক্তিক—তা ভাবনার দাবি রাখে।
লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাস এইটে ছিল, তখন বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে এই পদ্ধতিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক একাডেমিক সক্ষমতা মূল্যায়নের সুযোগ তেমনভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এ বছরের এসএসসির ফল সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। এটি হবে লটারি পদ্ধতির একটি বাস্তব মূল্যায়ন, যা শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কিছুটা তাড়াহুড়ো বলেই মনে হয়।
অন্যদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল একটি নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। দেখা গেছে, শুধু নামকরা বা ঐতিহ্যবাহী স্কুলই নয়, শহরের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের পাশাপাশি গ্রামের স্কুল থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আগে যেসব স্কুল ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সেরা শিক্ষার্থীদের বেছে নিয়ে ভালো ফল করত, সেখানে এবার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমেছে। এর বিপরীতে, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ভর্তি পরীক্ষা