ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে রাশিয়া-চীন

www.ajkerpatrika.com রাজিউল হাসান প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৬

দুটি সাম্প্রতিক খবর দিয়ে লেখাটা শুরু করছি। প্রথম খবরটি হলো, রাশিয়ার তেলের ওপর শর্ত সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপর খবরটি হলো, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়ে গেছে। দুটি সংবাদের সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত-সংকটের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। সোজা কথায় যদি বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু জিতে যাচ্ছে রাশিয়া ও চীন।


ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বোমার আঘাতে সব তছনছ হয়ে যাচ্ছে ইরানে। পাল্টা জবাবও দিচ্ছে তেহরান। তাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আরব অঞ্চলের দেশগুলো। ইরান সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর তারা হামলা চালাতে ইচ্ছুক নয়, যদি না সেই দেশের ভূখণ্ড থেকে তেহরান আক্রান্ত হয়।


ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো যুদ্ধের শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের মাটি থেকে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি তারা দেয়নি, দেবেও না। কিন্তু সমস্যা যেটা হচ্ছে, উপসাগরীয় ও আরব অঞ্চলের দেশগুলোয় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। সেসব ঘাঁটি থেকে হামলা হওয়া মানে ওই দেশগুলো থেকেই হামলা হওয়া। ইরান এই যুক্তিতেই অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।


এই যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি টালমাটাল। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ। সিএনএনের তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১৬টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে গত রোববারের তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ। তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইউরোপের দেশগুলোয়ও তেল-গ্যাসের দাম নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে।


এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২ সদস্যরাষ্ট্র তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাতেও বাজারে প্রভাব পড়েনি। বাধ্য হয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর শর্ত সাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার শক্তির অন্যতম উৎস তেল বিক্রির অর্থ। সেই শক্তি ক্ষয় করতে রাশিয়ার ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। কিন্তু তারপরও ফাঁকফোকর দিয়ে রুশ তেল কেনাবেচা থামানো যায়নি। এ কারণে পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছিল। এ তালিকায় ভারতও ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এখন নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র।


এদিকে যে উদ্দেশ্যে তেলসহ রাশিয়ার বিভিন্ন খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহারে সেই উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অর্থনীতি এখন অনেকটাই দুর্বল। কিন্তু তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা যদি শিথিল থাকে, তাহলে সেই অর্থনীতি চাঙা হতে খুব বেশি সময় লাগবে না—এ কথা নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায়। কারণ, তেলসহ খনিজ সম্পদকে রাশিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও