নির্ঘুম রাতে সোফিয়ার মনে প্রায়ই শঙ্কা জাগে— একদিন হয়ত কল খুলে দেখবেন, তাতে আর পানি মিলছে না।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বাসিন্দা বলেন, “দিনশেষে আমরা তো মরুবাসীই। তেল-গ্যাস অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকলেও পানি হলো আমাদের বেঁচে থাকার মূল রসদ।”
ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য যত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, সোফিয়ার ভয়টা ততই বাড়ছে।
নিরাপত্তার কারণে প্রকৃত নাম প্রকাশ না করা এই নারী বলেন, “আমি যদি নিজেকে শত্রুর জায়গায় কল্পনা করি, তাহলে এই খাবার পানিকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতাম। পানির অভাবে পড়তে পারি, এ কথা কখনো কল্পনাও করিনি।
সিএনএনের একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোফিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের অনেকের মধ্যেই এই ভয় ঢুকে গেছে যে, যুদ্ধে তাদের জীবনধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রসদটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ‘ডেসালিনেশন’ বা ‘বিলবণীকরণ’ পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের পানিকে লবণমুক্ত করা হয়।
খাবার পানির তীব্র সংকটের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছে সবুজ গলফ কোর্স, বিশাল ওয়াটার পার্ক ও স্কি স্লোপের মতো নানা অবকাঠামো। আর এসব অবকাঠামোই এখন তাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার বাহরাইনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এতে পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়নি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৩০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।