৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছরের বৈশ্বিক থিম ‘Rights. Justice. Action. For ALL women and girls’। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিপাদ্যটি কেবল একটি স্লোগান নয় বরং আমাদের টিকে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেন্ডার স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনার সুবাদে আমি দেখেছি, উন্নত বিশ্ব কিভাবে তাদের জনসংখ্যার অর্ধেক-অর্থাৎ নারীদের অর্থনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের জন্য আজ সেই সময় এসেছে, যখন নারী অধিকারকে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং একটি অপরিহার্য ‘অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত কৌশল’ হিসাবে দেখতে হবে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের অবদান আজ সর্বজনবিদিত। কিন্তু আমরা কি জানি, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বর্তমানের ৪২.৭% থেকে বাড়িয়ে যদি পুরুষের সমান (৮১%) করা যেত, তবে আমাদের জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি প্রায় ১৪% বৃদ্ধি পেত? ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এটি অর্থনীতির জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। অর্থাৎ, নারীকে ঘরে বসিয়ে রাখা মানেই হচ্ছে অর্থনীতির চাকা অর্ধেক সচল রাখা।