নারী ক্ষমতায়ন: ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবায়নের সময়

প্রথম আলো সুবাইল বিন আলম প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৩

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে দিনটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার প্রশ্ন সামনে আনে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ দশমিক ৮৩ শতাংশ নারী হলেও শ্রমবাজারে তাঁদের অংশগ্রহণ মাত্র প্রায় ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএলও ২০২৪)। নির্যাতন, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারীরা স্বাভাবিকভাবেই তাকিয়ে আছেন প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে এসেছে। এসব প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখে সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোট দিয়েছেন।


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নারী অধিকারকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখা হতো। তাঁর শাসনামলে রপ্তানিমুখী শিল্পনীতির ভিত্তি তৈরি হয়, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে।


পরবর্তী সময়ে এই শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং বর্তমানে প্রায় ৪২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ নারী (বিজিএমইএ ও আইএলও ২০২৪–২৫)। জিয়াউর রহমান নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা চালু করেন। মন্ত্রিসভায় নারীদের অন্তর্ভুক্তিও নারী নেতৃত্বের পথ উন্মুক্ত করে।


বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর দুই মেয়াদে, নারী অধিকারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ (১৯৯৪) চালু হয়, যা গ্রামীণ নারীদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা বিনা মূল্যে করে। এর ফলে নারীদের স্কুল ভর্তির হার বেড়েছে, শিশুবিবাহ কমেছে এবং মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে।


বিশ্বব্যাংক ও ইউনেসকোর গবেষণায় দেখা গেছে, এই কর্মসূচির ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে, যেখানে মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েদের উপস্থিতি ছেলেদের সমান বা বেশি হয়েছে। তাঁর সরকার প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনা মূল্যে করে, নারীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা এবং স্টাইপেন্ড চালু করে। স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথ, নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন সেক্টর প্রোগ্রাম’ চালু করে মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিস্তার করে, যা মৃত্যুর হার কমিয়েছে।


বিএনপির ইশতেহারে ‘নারী ক্ষমতায়ন’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার শক্তিশালী হবে। সে লক্ষ্যে গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষায় সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প, যা নারীপ্রধান পরিবারের নামে ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা বা চাল, ডাল, তেল ও লবণের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।


বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সহায়তা সরাসরি নারীর হাতে গেলে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় বাড়ে। পাশাপাশি পিতামাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও