সিলেটকে বিনিয়োগবান্ধব করার বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে

বণিক বার্তা সিলেট মেট্রোপলিটন এম সাইফুর রহমান প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:০৩

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। সিলেট নগরী উন্নয়ন ভাবনা ও অগ্রাধিকার নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তায়। 


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। প্রশাসক হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী থাকবে?


এম সাইফুর রহমান: গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের ছয় শহরে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি আমরা যোগদান করি। আমাদের ছয়জনের যোগদানপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের কাছে যোগদান পত্রটি দিই। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে কাজ করার উপযুক্ত মনে করছেন বলে ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তারই দলের পোড়খাওয়া কর্মী। মাঠে-ময়দানে সংগ্রাম করেছি। তাছাড়া অতীতেও আমাদের এ ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সবকিছু বিবেচনা করেই তিনি আমাদের এ দায়িত্বের জন্য নির্বাচন করেছেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ই উনি আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ শহরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নগরবাসীর কল্যাণ কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা ভাবতে হবে। ভেবেচিন্তে আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা যে পরিকল্পনা নিচ্ছি সেগুলো যেন ওনাকে অবহিত করি সে নির্দেশনাও প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। আমরা যে পরিকল্পনা নেব সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে। দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে রুটিনমাফিক কাজ হয়েছে কিন্তু দেখভাল করার মতো কেউ ছিল না। ফলে শহরে বহুবিধ সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমার কাজ হবে প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।


নগরীকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সরকারপ্রধান আপনাদের সঙ্গে গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বিস্তারিত কিছু বলতেন।


এম সাইফুর রহমান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। সিটিগুলোতে ধুলাবালি বাড়ছে। তাছাড়া যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। এ সমস্যাগুলো দূর করে একটি পরিচ্ছন্ন শহর মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে চাই। সবুজায়নের মাধ্যমে শহরগুলোকে আমরা গ্রিন ও ক্লিন করব। অর্থাৎ শহরের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতা—এ দুটোই থাকবে। এখন গ্রিন সিটি বলতে যে বৈজ্ঞানিক ধারণাটি রয়েছে বা শহুরে ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেটা অল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা আমাদের পক্ষে এখনই সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতে আমরা নগরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেব। এখন সর্বপ্রথম শহরকে পরিষ্কার করার কাজটি করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা দরকার। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলে অনেক রোগবালাইয়ের সংক্রমণ বাড়ে। বিশেষত মশার উপদ্রবই আমাদের ভোগায় বেশি। এডিস মশা কিন্তু বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া হয়।


সবচেয়ে বড় কাজ হলো শহরটাকে পরিষ্কার করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাকে শক্তিশালী করা। বর্জ্যের কারণে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের উপসর্গ তৈরি হয়। এডিস মশা এখান থেকে হয়। এ মশা থেকে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া হয়। সুতরাং আমরা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। শহরে দৈনন্দিন চলার ক্ষেত্রে মানুষের যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হয় সেগুলো থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই আমাদের কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী ভূমিকা রাখার কাজটি করতে হবে।


সিলেটে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময় সুপেয় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। এ সমস্যাগুলো মোকাবেলায় আপনাদের পদক্ষেপ কেমন হবে?


এম সাইফুর রহমান: এখন তো রমজান মাস। স্বাভাবিকভাবেই সুপেয় পানির চাহিদা বেশি। এ সময়টায় জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা নয়। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায় এবং জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এখন এগুলোর বিষয়েই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। বর্ষা আসার আগেই যেন আমরা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাই সে পদক্ষেপ নিতে হবে। শহরে যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেজন্য ড্রেন আর কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। আবার অনেক জলাশয় আছে যেগুলো দখল হয়ে আছে। এসব দখল হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সিলেটে নদী, জলাশয় ও হাওর রয়েছে। বৃষ্টির পানি যদি আমরা জলাশয়গুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা আর থাকবে না। আপনারা জানেন সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত শহর। শহরের দূষণের পেছনে এটি একটি বড় কারণ। এখানে অনেক প্রবাসীর বাস। প্রতি বছর প্রবাসীরা ছুটির সময় সিলেটে ঘুরতে আসেন। তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রবাসীদের জন্য বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, প্রবাসীদের জমিজমা অন্যরা দখল করে ফেলে। বিভিন্ন সময় প্রবাসীরা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমি কাজ করব। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের সহযোগিতা নেব। এগুলো ভবিষ্যৎ ভাবনা। এবার আসা যাক রমজান মাসের পরিকল্পনা। এ সময়টাতে শহরে যানজট বাড়ে। শহরের মধ্যে অনেক যানবাহন প্রবেশ করে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাব। কিন্তু এ কাজে সফল হওয়ার জন্য আমি সিলেটবাসীর সহযোগিতা চাই।


সিলেটে বহু পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সমস্যা হলো, এসব পর্যটন স্থানের আশপাশে আবাসন সুবিধা অপ্রতুল। শহরেই হোটেল বা সেবাগুলো কেন্দ্রীভূত। এজন্য সিলেটের পর্যটন খাত পরিপূর্ণভাবে তার সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে পারছে না। এদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মানবসৃষ্ট নানা কারণে বিনষ্ট হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এ ক্ষেত্রে কী করতে পারে?


এম সাইফুর রহমান: আমি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি। আবার এ বছর জাতীয় নির্বাচনে সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছি। সিলেটে দলীয়ভাবে আমাদের ফল অনেক ভালো। মন্ত্রিপরিষদে সিলেট থেকে দুজন নির্বাচিত এমপি জায়গা পেয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বাণিজ্য শিল্প এবং টেক্সটাইল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। আর সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন। আমরা সবাই সিলেটকে কীভাবে পর্যটনবান্ধব করা যায় তা নিয়ে ভাবছি। কীভাবে সংস্কার করা যায় তা নিয়ে আমাদের সবারই ভাবনা রয়েছে।


চট্টগ্রামের মতো সিলেটে কিন্তু ওই অর্থে শিল্প-কারখানা নেই। অথচ এখানে অনেক অলস অর্থ থাকলেও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই। সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?


এম সাইফুর রহমান: আসলে বিনিয়োগ কম থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। সিলেট অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ার বিষয়ে অতীতে অনেক সরকারই তেমন উদ্যোগী ছিল না। বিশেষত বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের শাসনামলে তো আরো হয়নি। ওই সময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। এখন আমরা এসব নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও একটি সেমিনারে এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। সিলেটকে কীভাবে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা যায় তা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। এজন্য বিশেষায়িত কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্যও আমাদের চিন্তা রয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও