দেয়ালের ভাষা নিউজফিডে, পোস্টার থেকে পেজে

www.ajkerpatrika.com প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭

নির্বাচনী প্রচারের চেনা দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। দেয়ালজুড়ে স্লোগান, অলিগলিতে পোস্টারের জঙ্গল—এবার আর এসব দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের বিধিতে পোস্টার ও দেয়াললিখন নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রার্থীরা বাধ্য হচ্ছেন প্রচারের ধরন পাল্টাতে। সেই শূন্যতা পূরণ করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক, বিনোদন বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।


প্রার্থীদের বড় একটি অংশ প্রচারের বাজেট নতুন করে সাজাচ্ছেন। পোস্টার ছাপা, দেয়াল রং, ব্যানার লাগানোর খরচ কমিয়ে সেই অর্থ ঢালা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট তৈরি, পেজ ম্যানেজমেন্ট, ডেটা বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠছে আলাদা একটি ‘ডিজিটাল টিম’। ডিজিটাল প্রচারের এই বিস্তার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও এর ব্যয়, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


প্রার্থীদের এই ডিজিটাল প্রচার কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা (ডিজিটাল প্রচারণা) বাস্তবতা। ভবিষ্যতে এগুলো আরও ব্যাপকভাবে হবে। এগুলো নজরদারি করা দরকার। কারণ, ডিজিটাল প্রচারমাধ্যম অপব্যবহার হতে পারে। তাই এগুলোর ব্যাপারে আমাদের নির্বাচন কমিশনে একটা ইউনিট থাকা দরকার, যারা এগুলো মনিটর করবে।’


প্রার্থীদের ডিজিটাল টিমগুলো নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি, পোস্টের রিচ বাড়ানো, মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা পর্যবেক্ষণের কাজ করছে।

ফেসবুকেই সবচেয়ে বেশি জোর


প্রার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার চালাতে সাম্প্রতিক এক সপ্তাহেই প্রার্থীরা প্রায় ৪১ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেছেন; বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যয়ের দিক থেকে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। আর অনুসারীর সংখ্যায় সবার আগে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। নির্বাচনী প্রচারণার বাকি দিনগুলোতে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার ‘অ্যাড লাইব্রেরি’ অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৯১৫ ডলার। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এক মাসে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ১৩৪ ডলার। আর ২৬ অক্টোবর থেকে ২৩ জানুয়ারি—এই তিন মাসে ব্যয়ের পরিমাণ ২ লাখ ৭২ হাজার ৫১ ডলার।


কে কত খরচ করছেন


মেটার হিসাব বলছে, গত সাত দিনে বাংলাদেশে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডলার খরচে শীর্ষ ২০টি পেজের মধ্যে ১৫টিই রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দল-সম্পর্কিত। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর নামের ফেসবুক পেজ। সাত দিনে এখান থেকে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১১০ ডলার।


দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘মার্টসেক্টর’ (২ হাজার ৪ ডলার)। এটি একটি তৈরি পোশাক ব্র্যান্ডের পেজ হলেও সম্প্রতি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক অঙ্কিত চাদরের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের ভেরিফায়েড পেজ; এখান থেকে সাত দিনে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৬২৩ ডলার।


চতুর্থ স্থানে আছে ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের নামে থাকা পেজ। সাত দিনে এখান থেকে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩১৬ ডলার।


ডলার খরচে শীর্ষ বিশের মধ্যে নয়টি পেজ বিএনপি-সংশ্লিষ্ট, তিনটি জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট এবং একটি জাতীয় নাগরিক পার্টি-সংশ্লিষ্ট। বাকি দুটি পেজ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও