আতঙ্ক বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক ‘টার্গেট কিলিং’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড। ভরদুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা হাদিকে টার্গেট করে একটি গুলি করা হয়। টানা ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান হাদি।
এমন টার্গেট করে সবশেষ আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির। গত ৭ জানুয়ারি ঢাকার তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজার এলাকায় মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
মৃত্যুর আগে মোসাব্বির তার স্ত্রীর কাছে জানিয়েছিলেন তার জীবন আশঙ্কার কথা। মোসাব্বির বলেছিলেন, যে কোনো সময় তাকে মেরে ফেলতে পারে। তার অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। কে কোন দিন মেরে ফেলবে, সেটা বলাও যাবে না।
মোসাব্বিরের এ আশঙ্কা সত্য হতে বেশি সময় লাগেনি। শুধু হাদি কিংবা মোসাব্বির নন, তাদের মতো এমন অনেকে ‘টার্গেট কিলিং’র শিকার হয়েছেন। দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এখন পরিণত হয়েছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা ‘টার্গেট কিলিং’-এ। নিঁখুত পরিকল্পনায় যাকে টার্গেট করা হচ্ছে শুটাররা তাকে হত্যায় সফল হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা রাজনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ সহিংসতার দিকে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে। কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে এমন টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সব মহলে।