বাসে ডাকাতি, ধর্ষণ: ঢাকা-টাঙ্গাইল যেন আতঙ্কের মহাসড়ক
সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে বাসে ওঠার ১৫ মিনিটের মধ্যেই একা হয়ে পড়েন ২৬ বছর বয়সী গৃহবধূ। তাঁকে বাসের চালকের দুই সহকারী আলতাফ ও সাগর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সে দৃশ্য ধারণ করা হয় মোবাইল ফোনে। চিৎকার করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় ওই নারীর মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার। এরপর চালকও ধর্ষণ করেন।
চন্দ্রা, আশুলিয়া, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে বাসটি, আর রাতভর চলে গৃহবধূকে ধর্ষণ। রোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ কয়েকটি সড়কে সাভার পরিবহনের একটি বাসে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এমন ঘটনা নতুন নয়। গত এক যুগে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-জামালপুর- শেরপুর সড়কে এমন ভয়াবহ ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। কিছু ঘটনা নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। তারপরও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এমন ঘটনা থেমে নেই। এসব ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসন বিব্রত। তারপরও থামানো যাচ্ছে না এমন অপরাধ।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম দাবি করেন, হাইওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য পুলিশের টহল বৃদ্ধিতে চলন্ত বাসে ডাকাতি বা ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এক বছরের বেশি সময় পর গত বুধবার দিবাগত রাতে এমন ঘটনা ঘটল। দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যমুনা সেতু পূর্ব থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রসুলপুর পর্যন্ত এবং মধুপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কপথে বেশ কিছু স্থান নির্জন ও ফাঁকা। এমন জায়গাগুলোতেই চলন্ত বাসে দুষ্কৃতকারীরা ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন জেলার হলেও পালিয়ে যাওয়ার নিরাপদ পথ খুঁজতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গাকে বেছে নেয়।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত বুধবার চলন্ত বাসে যে ঘটনা ঘটেছে, তার চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল ২০২২ সালের ২ আগস্ট রাতে। ওই রাতে কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের একটি বাস যাত্রীবেশী ডাকাতেরা ছিনতাই করে। যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-মুখ-চোখ বেঁধে তাদের মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় তারা। ডাকাত দলের সদস্যরা বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে টানা তিন ঘণ্টা নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করে। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের রক্তিপাড়া এলাকায় বাসের গতি কমিয়ে পালিয়ে যায় তারা। গতি কমানো চালকবিহীন বাসটি সড়কের পশ্চিম পাশে বালুর ঢিবিতে আটকে গিয়ে কাত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।