ব্যায়াম না করেও যেভাবে ব্যায়ামের উপকার পাবেন
সুস্থ থাকতে হলে ব্যায়াম, ভালো খাবার, নিয়ম করে হাঁটা—এসব আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তব জীবন কি সত্যিই এত সহজ? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের চাপ, পরিবার সামলে জিমে যাওয়ার সময় কই! অনেকের কাছে ‘নিয়মিত ব্যায়াম’ শব্দটিই তাই একধরনের চাপ।
চলুন জেনে নিই, ব্যায়াম না করেও কীভাবে ব্যায়ামের উপকার পাওয়া সম্ভব।
ছোট কাজ, বড় পরিবর্তন
একটু দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, ঘরের কাজ করতে করতে দ্রুত হাঁটা কিংবা সন্তান বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ করে খেলা—এই কাজগুলোকে আমরা সাধারণ কাজ হিসেবেই দেখি। কিন্তু এই কাজগুলোই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়াম। এই ধারণার নাম ভিআইএলপিএ (ভিগোরাস ইন্টারমিটেন্ট লাইফস্টাইল ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি)। সহজ ভাষায়, দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো একটু বেশি জোর ও শক্তি দিয়ে করা।
ভিআইএলপিএ কী?
গত তিন বছরে আপনি যদি ব্যায়াম বিষয়ে একটু চোখ-কান খোলা রেখে থাকেন, তাহলে হয়তো একটি নতুন শব্দ শুনেছেন—ভিআইএলপিএ। ভিআইএলপিএ হলো দিনের ফাঁকে ফাঁকে খুব অল্প সময়ের জন্য একটু জোরে নড়াচড়া বা শারীরিক কাজ, যাকে বলে এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং, স্ন্যাকটিভিটি বা অ্যাক্টিভিটি মাইক্রোবার্স্টস। এর মূল লক্ষ্য হলো যাঁদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে সময় বা আগ্রহ নেই, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই বেশি নড়াচড়া করতে উৎসাহ দেওয়া।
এইচআইআইটি–র সহজ সংস্করণ
গত এক দশকে এইচআইআইটি (হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেইনিং) বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এতে অল্প সময়ের জন্য শরীরকে বেশি পরিশ্রম করানো হয়, যা হৃৎস্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মার্ক হ্যামার বলেন, ‘ভিএলপিএ আসলে এইচআইআইটি-রই ছোট ও সহজ সংস্করণ।’ এর মানে হলো জিম বা যন্ত্রপাতি ছাড়াই দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই এক-দুই মিনিটের জন্য হৃৎস্পন্দন বাড়ানো। গবেষণায় দেখা গেছে, এইচআইআইটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও শরীরের চর্বি কমাতে কার্যকর।