মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নীত করা যায় কীভাবে?

ঢাকা পোষ্ট ড. সুলতান মাহমুদ রানা প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৩

মানবাধিকার আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি মৌলিক ভিত্তি। জন লক (John Locke), জাঁ জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) কিংবা টমাস পেইনের (Thomas Paine) মতো সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তারা রাষ্ট্রের বৈধতার উৎস হিসেবে নাগরিকের সম্মতি, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সুরক্ষাকে চিহ্নিত করেছেন।


এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্র কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্র নয়; বরং এটি নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য গঠিত একটি নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। রাষ্ট্র যখন সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, কিংবা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার নামে নাগরিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে, তখন সামাজিক চুক্তির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানবাধিকার সংকট একটি কাঠামোগত রূপ ধারণ করে।


সমসাময়িক বিশ্বে মানবাধিকার সংকটকে আর বিচ্ছিন্ন কিছু লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। বরং এটি রাষ্ট্র, ক্ষমতা ও নাগরিকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভেতরে নিহিত এক গভীর কাঠামোগত টানাপড়েনের প্রতিফলন।


বহু রাষ্ট্রে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন কিংবা ডিজিটাল শৃঙ্খলার নামে প্রণীত আইন ও নীতিমালা ক্রমে মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও রাজনৈতিক ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সমস্যাটি এখানে কেবল আইনের অস্তিত্বে নয়; বরং আইন প্রয়োগের দর্শন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার জবাবদিহির অভাবে মানবাধিকার প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।


এই পরিস্থিতি বোঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা’ বিতর্কটি গুরুত্বপূর্ণ। বহু উন্নয়নশীল দেশে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্থিতিশীলতা আসে না, আর স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই যুক্তিতে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর মানবাধিকারকে দেখা হয় গৌণ বা বিলাসী বিষয় হিসেবে। কিন্তু ইতিহাস ও তুলনামূলক রাষ্ট্রচর্চা দেখায়, এই ধারণা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।


ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো—সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক আস্থাকে উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে নিয়েছে। সেখানে রাষ্ট্র শক্তিশালী, কিন্তু সেই শক্তি প্রয়োগের মূল উৎস নাগরিক সম্মতি ও বিশ্বাস। ফলে আইন প্রয়োগে কঠোরতা থাকলেও তা ভীতিকর নয় বরং গ্রহণযোগ্য।


মানবাধিকার সংকটের আরেকটি গভীর মাত্রা হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। যখন রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার জন্য দায়ীদের কার্যকরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না, তখন আইনের শাসন একটি কাগুজে ধারণায় পরিণত হয়। দার্শনিক হান্না আরেন্ট (Hannah Arendt) যেমনটি সতর্ক করেছিলেন, রাষ্ট্র যখন নাগরিকের ন্যায়ের অনুভূতিকে ভেঙে দেয়, তখন সমাজে নৈতিক অবক্ষয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই অবক্ষয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে গিয়েও সামাজিক সহিংসতা, অসহিষ্ণুতা এবং ভিন্নমতের প্রতি ঘৃণার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও