চীন কেন ইরান, ভেনেজুয়েলার পাশে নেই

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮

ভেনেজুয়েলায় ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলব’ (পরম সমাধানের খোঁজে অভিযান) এর পর মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরান। এই উভয় দেশ থেকে চীন প্রচুর জ্বালানি তেল কেনে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানে সম্ভাব্য পুতুল সরকার বসিয়ে ট্রাম্প চীনকেও জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সংকটে ফেলতে চাইছেন। বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য চীনকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করা। এবার সেটা নতুন চেহারা নিচ্ছে—তার অর্থনৈতিক সহযোগীদের কাবু করে। ‘বন্ধু’রাষ্ট্রগুলোর বিপদের মুখে গণচীন এখন কী করবে? সি চিন পিং কি পারবেন ট্রাম্পকে থামাতে? কীভাবে সেটা? আদৌ কি চীন এ রকম ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক?


বেছে বেছে চীনের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন


ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আগ্রাসন যে মূলত দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণের জন্য, সেটা এখন প্রায় সবাই বলছেন। ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ও ভোক্তা চীন। ২০২৪–এর ডিসেম্বর নাগাদ চীনের দৈনিক জ্বালানি তেলের ক্ষুধা ছিল প্রায় ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল। বিশ্ব তেলের বাজারে চাহিদার উত্থান মূলত চীনের মাধ্যমে। ২০১৩ থেকে ২০২৩–এ বিশ্ব তেল বাজারের চাহিদা বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কারণ ছিল চীন।


কিন্তু দেশটি জ্বালানির বিকল্প উপায় খুঁজে পেতে শুরু করায় অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কমছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়াতেও খনিজ তেল নির্ভরতা কমাচ্ছিল চীন। পণ্য তৈরির বদলে সেবা খাতের প্রসার ঘটায়ও জ্বালানি চাহিদায় রকমফের ঘটছে তাদের।


তবে এখনো চীন খনিজ তেলের প্রধান বিশ্বভোক্তা। নিজস্ব চাহিদার ৫০-৬০ শতাংশ খনিজ তেল তারা আমদানি করে। বাকিটা উত্তোলন করে। তেল মজুতে তারা বিশ্বে ১৪তম হয়েও ভোক্তা হিসেবে দ্বিতীয়। ফলে এই খাতে এখনো তারা বড় আমদানিকারক। ভেনেজুয়েলা থেকে চাহিদার কিছু পরিমাণ খনিজ তেল কিনত চীন।


বেইজিংয়ের জন্য ভেনেজুয়েলা তেলের বড় উৎস না হলেও দরকারি উৎস। কিন্তু ভেনেজুয়েলার দিক থেকে চীন তেলের বড় ক্রেতা। চীন তাদের বড় এক আর্থিক ভরসাও ছিল। তেলের আগাম দাম হিসেবে চীন প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে চীনের জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাতের পাশাপাশি ওই ঋণও আটকে গেল।


যদিও বিশ্বে খনিজ তেলের বড় এক ভান্ডার ভেনেজুয়েলা, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধে তারা বেশি তেল উত্তোলন ও বিক্রি করতে পারত না। যে কারণে তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশা চলছিল। চীন ঋণের বিনিময়ে তাদের তেল নিয়েছে। ভেনেজুয়েলায় চীনের ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগও রয়েছে। সেটাও এখন ঝুঁকিতে। ভেনেজুয়েলা থেকে আনা অপরিশোধিত তেলের বিশেষ খনিজ ধরনের কারণে চীনে অনেক বিশেষায়িত রিফাইনারি গড়ে উঠেছিল। সেগুলোও এখন কারিগরি ও আর্থিক সংকটে পড়ল।


ভেনেজুয়েলার মতো রাশিয়া ও ইরান থেকেও তেল নেয় চীন। ওই দুই দেশের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলছে। ভেনেজুয়েলার মতো ইরান যেসব দেশে তেল বেশি পরিমাণে রপ্তানি করে, সেই তালিকার প্রথমে আছে চীন। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার বড় এক কারণ চীনও। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমস্যা তৈরিও এসব দেশের বিরুদ্ধে অবরোধ ও যাবতীয় আগ্রাসনের একটা লক্ষ্য। তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি বন্ধুদেশগুলোকে দেওয়া ঋণ আটকে দেওয়া এবং বিশ্বের নানা দিকে চীনের বাণিজ্য ভিত্তিকে নতুন করে মুশকিলে ফেলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।


দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পিছু হটতে হবে চীনকে?


বিগত দশকগুলোতে বিশ্বজুড়ে চীনের প্রভাব বাড়ানোর দুটি হাতিয়ার ছিল পণ্যবাণিজ্য ও ঋণবাণিজ্য। গত দুই দশকে চীন দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছিল। এখানকার অধিকাংশ দেশে তার বিপুল বিনিয়োগ আছে। গত বছরই দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সম্মেলন হলো চীনের রাজধানীতে। সেখানে সি চিন পিং নতুন করে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর সূত্রে ব্রাজিল, কিউবা, প্যারাগুয়ে, পেরু ও ভেনেজুয়েলায় চীনা নাগরিকের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। এই অঞ্চলে ২০০৫ সালে চীন থেকে যে পরিমাণ পণ্যবোঝাই কার্গো গিয়েছিল, ২০২৪ সালে সেটা পাঁচ গুণ বেড়েছে। একই সময় আমদানি বেড়েছে ছয় গুণ।


২০২৪–এ বেইজিং চিলি, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া ও পেরুর সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করেছে। এই অঞ্চলের অন্তত ২০টি দেশ চীনের ‘সিল্করুট উদ্যোগে’ যুক্ত। ২০০৫ থেকে এই দেশগুলোতে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ঋণ দিয়েছে অন্তত ১২০ বিলিয়ন ডলার। এসব দেখেই যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতি আমূল বদলে ফেলেছে বলা যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও