ডিজেল দূষণে সংকটে সুন্দরবন
সুন্দরবনের বুক চিরে, এমনকি সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে দিয়েও পর্যটকদের নিয়ে বিলাসবহুল জাহাজের বহর ছুটে চলে দিনরাত। বঙ্গোপসাগরের কিনারা ছুঁয়ে বনের পাশে যখন নোঙর করে থাকে, তখনও এসব জাহাজের ইঞ্জিন আর জেনারেটর বন্ধ হয় না।
যে ধনাঢ্য পর্যটকরা এসব জাহাজের যাত্রী, প্রকৃতির নির্মল বাতাস বা শীতের নরম রোদ উপভোগ করার আগ্রহ তাদের সবার নেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনের আরাম ছেড়ে তারা বের হন না। কাচের জানালার ওপর থেকে তারা উপভোগ করেন বনভূমির বিস্ময়।
এ ধরনের বেশিরভাগ নৌযানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালু থাকে সারাক্ষণ। পর্যটকেরা কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য ডেকে বের হন। কেউ কেউ ছোট নৌকায় চেপে প্রবেশ করেন বনের সরু খালে। তখনও ইঞ্জিনের শব্দ, কৃত্রিম আলো আর সাউন্ড সিস্টেমের গর্জন যোগ করে নতুন দূষণ।
অক্টোবর থেকে মার্চ—পুরো পর্যটন মৌসুমেই শব্দ ও আলোর দূষণ সুন্দরবনকে ছায়ার মত অনুসরণ করে, ভেঙে খান খান দেয় অরণ্যের চিরায়ত নীরবতা।
কিছু কিছু নৌযানে সুইমিং পুল পর্যন্ত আছে। জাহাজে গোসল, ধোয়ামোছা বা শৌচাগারের জন্য যে পানি লাগে, তা জাহাজের তলায় বিশাল ট্যাংকে করে বহন করতে হয়। আবার সেই পানি তোলার জন্য প্রয়োজন পড়ে শক্তিশালী মোটর।
সুন্দরবনে পর্যটকদের এই বিলাসযাপন জারি রাখতে জ্বলতে থাকে ডিজেল, যা সবচেয়ে ক্ষতিকর দূষকের একটি।
খুলনার পর্যটক হাসানুর রহমান বললেন, “এসব ট্যুর ক্ষতিকর তো বটেই, রোমাঞ্চেরও কিছু নেই। জঙ্গলে যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মত প্রাণী ঘুরে বেড়ায়, তার কিছুই আপনি এসব বোটে বসে টের পাবেন না। দিনের পর দিন একটা পাখির ডাকও শুনবেন না।”