জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান
পাকিস্তানের জর্জরিত অর্থনীতির মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি দাবি করেছেন, লিবিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমানের যে বিপুল অর্ডার আসছে, তা পাকিস্তানকে সম্ভবত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইলআউট বা ঋণ সহায়তার হাত থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে। এই দেশগুলো পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান কিনলে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পাবে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ক্যাপিটাল টক অনুষ্ঠানে দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মীরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আসিফ এই প্রতিরক্ষা রপ্তানির রূপান্তরমূলক সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
বাস্তবে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের পারফরম্যান্সে ভালো জোয়ার লক্ষ করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো দেশটির সামরিক রপ্তানিকে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এই বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে সরকারি কর্মকর্তারা আইএমএফের বারবার নেওয়া ঋণ কর্মসূচির এক টেকসই বিকল্প হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, আইএমএফের ঋণগুলো প্রায়ই কঠোর শর্তাবলির সঙ্গে দেওয়া হয়, যা দেশের রাজস্ব সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করে।
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে বারবার আইএমএফের কাছে ধরনা দিয়েছে। এই আর্থিক সহায়তাগুলো সব সময়ই কঠোর শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছিল রাজস্ব সংস্কার, ভর্তুকি ছাঁটাই এবং আয় বৃদ্ধির নানা পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইএমএফ পাকিস্তানের জন্য তাদের এক্সটেনডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটির (ইএফএফ) আওতায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট অনুমোদন করে। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে জলবায়ু সহনশীলতা তহবিলের আওতায় আরও ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়া হয়, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু পাকিস্তান এখন আইএমএফের ঋণের দিকে বেশি একটা আগ্রহী নয়।