ফোন ডিটক্স কী, কেন সবার জন্য জরুরি?
আজকের দিনে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন, যিনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন না। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি কেবল অভ্যাস নয়, বরং একধরনের মানসিক নির্ভরতায় পরিণত হয়েছে। মনস্তত্ত্বে একে বলা হয় ফিয়ার অব মিসিং আউট বা ফেয়ার অব মিসিং আউট। সবসময় মনে হয় কোথাও কিছু ঘটছে, আর আমি সেটা মিস করে যাচ্ছি! এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় অস্থিরতা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ। তাই এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ফোন ডিটক্স বা মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা এখন অত্যন্ত জরুরি।
অনেকে ভাবেন, মোবাইল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ডিলিট করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দেখা যায়, এতে আসলে খুব একটা লাভ হয় না। বরং প্রথমেই বোঝা দরকার আপনার ফোন আসক্তির মাত্রা কতটা। ফোন কিছু সময় পাশে না রাখলে আপনি কি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন? ব্যস্ত হয়ে পড়েন নোটিফিকেশন দেখার জন্য? এগুলোই আসলে ফোনে নির্ভরতার লক্ষণ।
ডিটক্স শুরু করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো দিনে আপনি কত সময় ফোন ব্যবহার করছেন, সেটা জানা। আইফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংসে গিয়ে স্ক্রিন টাইম অপশনে সহজেই দেখে নিতে পারেন প্রতিটি অ্যাপে কতটা সময় কাটাচ্ছেন। চাইলে এখান থেকেই সময়ের সীমা সেট করা যায়। নির্ধারিত সময় শেষ হলেই ফোন অ্যালার্ট দেবে। আবার অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক ফোনেই রয়েছে গুগলের ডিজিটাল ওয়েলবিং টুল, যা স্ক্রিন টাইম নিরীক্ষা করতে সাহায্য করে।
এছাড়া বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে, যেগুলো ডিটক্স করতে অনেক সহায়ক। যেমন-ডাম্ব ফোন অ্যাপ ফোনের হোমস্ক্রিনকে এতটাই সাদামাটা করে দেয় যে ফোন হাতে নিতেই বিরক্ত লাগে। ওপাল অ্যাপ দেখায় আপনি কতটা স্ক্রিন টাইম কমালেন এবং কতটা সময় নিজেকে ফোনমুক্ত রাখলেন।
- ট্যাগ:
- প্রযুক্তি
- স্মার্টফোন
- ডিটক্স