গুম, খুনের শিকার মায়েদের কান্না জমা করলে বুড়িগঙ্গার চেয়ে বেশি পানি হতো: সাইফুল হক
ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে যাঁরা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মা, বোন, স্ত্রীদের কান্না যদি জমা করা হতো, তাহলে বুড়িগঙ্গার চেয়ে বেশি পানি জমা হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
আজ সোমবার রাজধানীর শাহীনবাগে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সাইফুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি)।
সাইফুল হক বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে যেভাবে মানুষকে গুম, খুন ও নির্যাতন করা হয়েছে, কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজ তাঁর নাগরিকদের এমন নির্যাতন করতে পারে না। কোনো বিচার ছাড়া কাউকে গুম করেছে, ক্রসফায়ারে দিয়েছে, হত্যা-নির্যাতন করেছে, আয়নাঘরে নিয়েছে—এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়।'
সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। মায়ের ডাকের সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আজকের এই সভা কোনো নির্বাচনী প্রচারণা নয়, এটা শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ।’
মায়ের ডাকের মতো প্ল্যাটফর্ম না থাকলে এই দেশ থেকে হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে বিদায় করা যেত কি না, সে বিষয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে সংগঠিত অন্যায়, গুম ও খুনকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করেছিল।
মতবিনিময় সভায় মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষিত ও মননশীল ব্যক্তি যখন সমাজের নেতৃত্বে আসেন, তখন সেটি গোটা সমাজের জন্য আশীর্বাদ। আগামীর রাজনীতিতে যেই পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় সাইফুল হক এই আসনে বিএনপির থেকে মনোনীত হয়েছেন।
রাজনৈতিক এই যাত্রা মানুষের জন্য, পরিবর্তনের জন্য। যেই নির্দেশনা তারেক রহমান দিয়েছেন, তা মেনে চলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের গুরুদায়িত্ব।
মায়ের ডাকের সদস্য রমিজউদদীন রাজু বলেন, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর ভাই নিজামুদ্দিন মুন্নাকে রাজধানীর দক্ষিণ খানের একটি পার্ক থেকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়। তারপর নিজামুদ্দিনের আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।