খোকন দাসের আয়ে চলত পরিবার: ‘আমরা তো পথে বসে গেলাম’
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যার খোকন দাসের পরিবার এখন দিশেহারা। ছোট ছোট তিনটি সন্তানকে নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে পারি দেবেন সেই দুশ্চিন্তাই এখন তাদের সারাক্ষণের সঙ্গী।
শনিবার সকালে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাড়ির সামনেই খোকন দাসের শেষকৃত্য হয়।
এতে পরিবারের সদস্য ছাড়াও প্রতিবেশী-স্বজনরা অংশ নেন। সবাই তাকে চোখের জলে বিদায় দেন।
খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, তার তিন মেয়ে আর এক ছেলে। তিন মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। খোকন দাস তিলই বাজারে একটি ওষুধের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করতেন। এখান থেকে আয়েই পরিবার চলত।
খোকন দাসের (৫০) স্ত্রী সীমা রানী দাস গৃহিনী। তাদের তিন ছেলে আকাশ চন্দ্র দাস (১৫), বিকাশ চন্দ্র দাস (১০) এবং আদর চন্দ্র দাস (৫)।
পরেশ চন্দ্র দাস বলছিলেন, “একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা পথে বসে গেছি। সেই তো দোকানটা চালিয়ে কোনোরকমে সংসারটা ধরে রেখেছিল। এখন সে নাই, দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। এতগুলো মানুষ নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব। আমরা কীভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব জানি না।
“ছেলেকে যারা এইভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।”
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।