‘আমি নিজেকে একজন সামান্য মানুষ বলেই মনে করি’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি ও যুক্তিতর্ক চলাকালে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেই বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য দুই পর্বে তুলে ধরা হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব
সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট মাননীয় আদালত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে কেন্দ্র করে আমিসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। সমস্ত অভিযোগ স্ববিরোধী বক্তব্যে ভরপুর।
এই ট্রাস্টের অর্থায়ন, পরিচালনা বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে আমার নিজের ব্যক্তিগতভাবে কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এখনো নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি, পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি।...
এই ক্ষমতা অপপ্রয়োগের ভয় তাই বিচারকদের মনে থাকাটাই স্বাভাবিক। নিম্ন আদালতে এই পরিস্থিতি ও পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব আরও বেশি প্রকট। আমি একটিমাত্র ছোট্ট উদাহরণের কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং আমার ও শহীদ জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানকে অর্থ পাচারের একটি বানোয়াট অভিযোগ থেকে তার অনুপস্থিতিতেই একজন বিচারক বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন।
এই অপরাধে শাসক মহল উক্ত বিচারককে হেনস্তা ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এমন সব তৎপরতা শুরু করে যে তাতে তাকে আত্মরক্ষার জন্য সপরিবারে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। এই একটিমাত্র উদাহরণই ন্যায়বিচার ব্যাহত করতে এবং ব্যক্তি বিচারকদের নিজস্ব নিরাপত্তাবোধের ব্যাপারে শঙ্কিত করার জন্য যথেষ্ট।
- ট্যাগ:
- মতামত