আকাশপথে ভ্রমণ অনেকের কাছেই যেমন প্রয়োজন, তেমনি অনেকে এটি উপভোগও করেন।
তবে আকাশ ভ্রমণের পুরোটা আরামদায়ক হবে কি-না, তা নির্ভর করে ভ্রমণকারীদের আচরণ এবং নীতিনিয়ম মানার ওপর।
বিমানের ভেতরে সীমিত জায়গা, ভিড়, নিরাপত্তা ও সময় রক্ষার মতো বিষয়গুলো যাত্রীদের সচেতন ভাবে মানা উচিত।
সংযত আচরণ: বিমানসেবীদের স্পর্শ থেকে বিরত
বিমানের ভেতরে প্রতিটি মুহূর্তেই বিমানসেবীরা ব্যস্ত থাকেন নানা দায়িত্বে। খাবার পরিবেশন, পানীয় সাজানো, যাত্রীসহায়তা, নিরাপত্তা তদারকি ইত্যাদি।
মার্কিন বিমানসেবী আইডেন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “কাউকে ডাকতে বা কোনো অনুরোধ জানাতে কখনই শারীরিক স্পর্শ ব্যবহার করা উচিত নয়। বিমানে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়াতে হঠাৎ স্পর্শ বিমানসেবীদের জন্য অপ্রস্তুতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সামান্য ডাকা বা মুখে সম্বোধন করলেই তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকেন। ভদ্রতা বজায় রাখাই এখানে সবচেয়ে বড় শিষ্টাচার।”
বোর্ডিংয়ের পরই শৌচাগারে যাওয়া অনুচিত
বিমানে ওঠার পরপরই অনেকে শৌচাগারের দিকে ছুটে যান। তবে এটি যাত্রা শুরুর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
আইডেনের ভাষায়, “বোর্ডিং চলাকালে বিমানসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন। এসবের মাঝে যাত্রীদের শৌচাগারের সারি আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাছাড়া যাত্রীরা বোর্ডিংয়ের আগে বিমানবন্দরের শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ পান। তাই বিমানে ওঠার পরপরই শৌচাগারে না যাওয়া শ্রেয়।”
পথচলতি জায়গা বন্ধ না করা
বিমানের ভেতরে চলার পথ খুবই সংকীর্ণ। অনেক সময় যাত্রীরা হাত, পা বা পায়ের গোড়ালি সামান্য বের করে বসে থাকেন, যা বিমানসেবীদের চলাচলে বাধা তৈরি করে। স্বভাবতই বিমানসেবীদের বিভিন্ন সময়ে পুরো কেবিনে হাঁটতে হয়- খাবার দেওয়া, গায়ে গরম কম্বল সরবরাহ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির জন্য।
চলার পথ আটকে দিলে শুধু কাজেই সমস্যা হয় না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই নিজেদের আসনের জায়গা সংবেদনশীলভাবে ব্যবহার করা উচিত।
নামার সময় সামনে দৌড়ে যাওয়া— অসভ্যতার পরিচয়
বিমানে পৌঁছানোর পর অনেকেই অস্থির হয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে চান। তবে সবারই গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকে।
তাই নিজের আসন ছেড়ে সামনে দৌড়ে যাওয়া অন্যদের প্রতি অসম্মানজনক।
বিমান যখন গেটের কাছে পৌঁছায়, নিয়ম অনুযায়ী সামনে থেকে পেছনের দিকে আসন ধরে ধরে যাত্রীরা নেমে যান। ভদ্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই নিয়মই সবার যাত্রাকে সহজ করে।