
এআই চ্যাটবটকে যে ১০ তথ্য কখনো দেবেন না
চ্যাটজিপিটি বা অনুরূপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের ব্যবহার এখন অনেকটাই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। মেইল খসড়া করা থেকে শুরু করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা মাঝে মাঝে একাকিত্বে সঙ্গ দেওয়ার মতো কাজেও মানুষ এখন চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন। মানুষের মতো করে উত্তর দেওয়ার ক্ষমতার কারণে অনেকেই এগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য বলেই ভাবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদের ঝুঁকি।
কোনো এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলাপ আসলে গোপন নয়। আপনি যা বলছেন, তা সংরক্ষণ করা হতে পারে, বিশ্লেষণ করা হতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতে ফাঁসও হয়ে যেতে পারে। ফলে, কিছু বিষয় কখনোই শেয়ার করা উচিত নয়।
এখানে এমন ১০টি বিষয় তুলে ধরা হলো, যা কখনোই চ্যাটবটের সঙ্গে শেয়ার করবেন না—
১. ব্যক্তিগত তথ্য
আপনার পুরো নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর কিংবা ই-মেইল ঠিকানা—এগুলো আলাদা আলাদাভাবে নিরীহ মনে হলেও একত্র করলে এগুলো দিয়ে আপনার অনলাইন পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। এই তথ্য ফাঁস হলে আপনি প্রতারণা, ফিশিং আক্রমণ বা এমনকি শারীরিক ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এআই চ্যাটবট গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দেয় না, তাই ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা উচিত।
২. আর্থিক তথ্য
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ বা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের মতো তথ্য সাইবার অপরাধীদের কাছে মূল্যবান। চ্যাটবটে এসব তথ্য দিলে তা চুরি বা অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।
৩. পাসওয়ার্ড
কোনো চ্যাটবটের সঙ্গেই আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না, এমনকি কথার ছলে হলেও নয়। এটি আপনার ই-মেইল, ব্যাংক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। পাসওয়ার্ড সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
৪. গোপন কথা বা স্বীকারোক্তি
অনেকেই একাকিত্বে চ্যাটবটকে মন খুলে বলার চেষ্টা করেন। তবে এআই কোনো বন্ধু বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নয়। আপনি যা বলছেন, তা সংরক্ষিত হতে পারে, পরবর্তীতে প্রশিক্ষণে ব্যবহার হতে পারে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসও হতে পারে। সুতরাং, গোপন কিছু জানাতে চ্যাটবট নয়, বেছে নিন উপযুক্ত মানুষ।
৫. স্বাস্থ্য বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য
চ্যাটবটের মাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ক তথ্য জানতে চাওয়া অনেকের অভ্যাস। তবে এআই চিকিৎসক নয়, ভুল তথ্য দিতে পারে। এমনকি আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য যেমন: প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসার ইতিহাস বা বিমার তথ্য—শেয়ার করলে তা চুরি হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সর্বদা যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।