এখন চলছে চৈত্র মাসের শেষের দিক। বসন্তকাল শুধুই ক্যালেন্ডারের পাতাতে মানানসই। কিন্তু প্রকৃতিতে তীব্র গরম। কদিন পরেই শুরু হবে গ্রীষ্মকাল। তবে এর মধ্যেই ঘরে ঘরে এয়ারকন্ডিশনার চলতে শুরু করেছে। এসি একসময় বিলাসিতা হিসেবেই দেখা হতো, কিন্তু বর্তমানে এটি একটি অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এটি শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত গরমে শিশুর কষ্ট হবে ভেবে সারাদিন আপনার শিশুকে এসি ঘরে রাখছেন, এতে আপনার শিশুসন্তান শারীরিকভাবে সুস্থ থাকছে তো?
শিশুর শরীর প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা। তবে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই এসি ব্যবহারের সময় সার্বিক দিক থেকে তাদের আরামপ্রদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখা খুবই জরুরি। জেনে নিন এসিতে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ এবং তা থেকে বাঁচার উপায়—
শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য এসির সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হচ্ছে— এর বাতাসের সঙ্গে নির্গত জীবাণু। বিশেষ করে, সময়মতো এসি পরিষ্কার করা না হলে এসির বাতাস রীতিমতো বিষাক্ত হয়ে যায়। কারণ দীর্ঘদিন নোংরা থাকা এসিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। এই জীবাণুগুলো বাতাসে সঞ্চালিত হয়ে শিশুর দেহে প্রবেশ করে। ফলে শিশুর নানা ধরনের বায়ুবাহিত রোগে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া এসি থেকে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাসে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরা অভ্যস্ত হতে পারে না। এর মূল কারণ হচ্ছে— এমন পরিবেশের জন্য শিশুর শারীরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো পরিপক্ব নয়। তাই ভয়ের কারণ হচ্ছে— এসির শীতলতার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উল্টো বরং কমে যেতে পারে।