একটা অস্থির সময় পার করছি আমরা

প্রথম আলো মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪

খবরের কাগজ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাওয়া যায় না। আমি যেখানে থাকি, সেখানে এখন খবরের কাগজ পাই না। ইন্টারনেট বন্ধ। টেলিভিশনে যে সংবাদ দেখি, সেগুলো অনেকটা নিয়ন্ত্রিত বলে মনে হয়। আসল পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছি না। 


শুরুটা হয়েছিল নিরীহ একটা আন্দোলন দিয়ে। ২০১৮ সালেও একবার কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল। তখন ছাত্রদের দমন করতে ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীকে পথে নামতে দেখেছি। সে বছরে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দমনেও হেলমেট বাহিনী নেমেছিল। তারা ছাত্রদের, সাংবাদিকদের পিটিয়েছিল। এই হেলমেট বাহিনী কারা, সেটা সবাই জানে। এবারও আমরা একই ঘটনা দেখলাম। 


কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের প্রথম কয়েক দিনের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত উক্তিকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হলো। মধ্যরাতে হলগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ করল।


এরপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিলেন। এরপরই আমরা দেখলাম ছাত্রলীগ, যুবলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করল। পিটিয়ে ছাত্রদের আহত করল। 


এখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্র নয়। তারা অনেকে জোর করে ক্যানটিনে খায়, তারা রুম দখল করে রাখে। সাধারণ ছাত্রদের গণরুম নামের একটা জেলখানায় থাকতে বাধ্য করে। মিছিল–মিটিংয়ে না গেলে পেটায়।


এগুলো তো বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। কোটা সংস্কার তো একটা উপলক্ষ, ছাত্রদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণেই আন্দোলনটা এত বড় হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই ছাত্ররা বেরিয়ে এল। হেলমেট বাহিনী তাদের পেটাল। আন্দোলন ক্যাম্পাসের বাইরে চলে এল। আন্দোলন যাঁরা করছিলেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ সেখানে সম্পৃক্ত হয়ে গেল। 


অনেকে বলছেন যে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছাত্র কোথায়? লুঙ্গি পরা লোকজন কেন আন্দোলনে আসছে? এ ধরনের প্রশ্ন উদ্দেশ্যমূলক। এ দেশের অধিকাংশ মানুষ তো লুঙ্গি পরে। রিকশাওয়ালা, মুটে, মজুর, দোকানদার, পরিবহনশ্রমিক—সব ধরনের লোকই আন্দোলনে নেমে গেছেন। দীর্ঘদিনের অনাচার, দুর্নীতি, শোষণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে তাঁরা নেমেছেন। এখন আর আন্দোলনটা ছাত্রদের হাতে নেই। আমরা এর আগে সব আন্দোলনেই এ রকমটা দেখেছি। 


আন্দোলনে জ্বালাও–পোড়াও, ভাঙচুর এ দেশে সব সময়ই হয়ে আসছে। এরশাদের আমলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বাম দলগুলো ও জামায়াতে ইসলামী সবাই মিলেঝুলে কত গাড়ি পুড়িয়েছে, কত ভবনে আগুন দিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কেন করেছে তারা এগুলো? তারা মনে করেছে গাড়ি পোড়ালে, ভবনে আগুন দিলে দেশে গণতন্ত্র আসবে।


’৯১ সাল থেকেই আমরা দেখতে শুরু করলাম গণতন্ত্রের রূপটা আসলে কেমন! বিএনপি ক্ষমতায় এল। দুই বছর যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগ, জামায়াত মিলে গাড়ি পোড়ানো, ভাঙচুর শুরু করল। এরপর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপি ও জামায়াত মিলে গাড়ি পোড়ানো, ভাঙচুর শুরু করে দিল। এভাবেই এ দেশের রাজনীতি চলছে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও