কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

সম্পদের পাহাড়ে স্বাস্থ্য খাতের ১৯ ঠিকাদার

কালের কণ্ঠ প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২০, ১০:১২

জালিয়াতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্বাস্থ্য খাতের ১৯ ঠিকাদার। স্বাস্থ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিন্ডিকেট। বাজারমূল্যের চেয়ে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির দাম ১৫০ থেকে ২০০ গুণ বেশি দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে তারা। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘুরেফিরে এই ঠিকাদাররাই বেশির ভাগ কাজ পেয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার নামে জালিয়াতি করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্লট, বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাঁরা।

শুধু দেশেই নয়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে এই সিন্ডিকেট। জালিয়াতি করে ঠিকাদারদের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে।

স্বাস্থ্য খাতের এই দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে দুদক এরই মধ্যে ১১টি মামলা করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনাসহ সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ১৪ ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের ডন হিসেবে পরিচিত টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু ও জেএমআইয়ের মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ পাঁচ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের তলবও করা হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের জালিয়াতি ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দুদক সূত্র জানায়। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির কথা উঠলেই সবার আগে আসে আলোচিত ঠিকাদার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা আক্তারের নাম। নামে-বেনামে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্নীতি এবং নিম্নমানের জিনিসপত্র সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন তাঁরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। অনুসন্ধান শেষে ৩১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক তিনটি মামলা করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মামলার পর তদন্ত করছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে আবজাল-রুবিনা দম্পতির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আবজাল-রুবিনা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার আবজাল দম্পতির দুর্নীতির কথা সবাই জানলেও আরেক দুর্নীতিবাজ বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের কথা কেউ জানে না। মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনের আত্মীয়-স্বজনের নামে রয়েছে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঢাকা, ফরিদপুরসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে বাজারমূল্যের চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ গুণ বেশি দামে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে মুন্সী সাজ্জাদ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় শতকোটি টাকা। আবজাল দম্পতি এবং মুন্সী সাজ্জাদের চেয়ে আরেকটু এগিয়ে ঠিকাদার জাহের উদ্দিন সরকারের দুর্নীতি। তাঁর নিজ নামে এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে রয়েছে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক, মার্কেন্টাইল ট্রেড ও ইউনিভার্সেল ট্রেড নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে জাহের উদ্দিন প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে নেমে দুদক দুর্নীতির এসব চিত্র খুঁজে পায়। দুর্নীতি ও অনিয়ম করে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুদক কালো তালিকাভুক্ত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর ছয় মাস পর সম্প্রতি এই ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও