পবিত্র কোরআন। ছবি: সংগৃহীত

নামাজে হাদিসে কুদসি থেকে তেলাওয়াত করা যাবে কি?

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪৪
আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪৪

(প্রিয়.কম) পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কুদসির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। পবিত্র কোরআনুল কারিম আল্লাহর কালাম, যার শব্দমালা তিনি রাসুলুল্লাহর (সা.) প্রতি ওহির মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন বা পাঠিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে তিনি আরবদের প্রতি চ্যালেঞ্জ করেছেন। আর আরবরা সে চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে সব বিবেচনায় ব্যর্থ হয়েছে। এটা পবিত্র কোরআনের একটি বিশেষত্ব। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কুদসির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যগুলো হলো-

আল কোরআনুল কারিম কেবল আল্লাহর দিকেই নিসবত করে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, আল্লাহতায়ালা বলেছেন। আর হাদিসে কুদসি কখনো কখনো আল্লাহর নিসবত করে উল্লেখ করা হয়। এ সময় এ নিসবতের অর্থ হবে ইনশা তথা স্থাপন ও প্রবর্তন। অতঃপর বলা হবে, আল্লাহতায়ালা বলেছেন অথবা আল্লাহতায়ালা বলেন। আবার কখনো কখনো রাসুলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে নিসবত করেও উল্লেখ করা হয়। এ সময় এ নিসবতের অর্থ হবে বর্ণনা করা বা খবর দেওয়া। কেন না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে মানুষকে সংবাদ দেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করে হাদিসে কুদসি বর্ণনার সময় বলা হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিম পুরোটাই মুতাওয়াতির বা ধারাবাহিকভাবে প্রমাণিত। অতএব তা প্রামাণিকতার বিচারে অকাট্য। পক্ষান্তরে অধিকাংশ হাদিসে কুদসি আখবারে আহাদ। অতএব তা প্রামাণিকতার বিচারে ‘যান্নি’ বা সন্দেহের অবকাশযুক্ত। অনুরূপভাবে হাদিসে কুদসি সহিহ, হাসান ও যাইফও হতে পারে।

পবিত্র কোরআনুল কারিম শব্দে ও অর্থে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আশা। অতএব তা শব্দ ও অর্থ উভয় বিবেচনাতেই ওহি। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসির ভাব ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে আশা। আর এর শব্দগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রয়োগকৃত। অতএব হাদিসে কুদসি ভাব ও অর্থগতভাবে ওহি। এ কারণেই জমহুর মুহাদ্দেসিনের মতানুযায়ী হাদিসে কুদসির (রিওয়াইয়া বিল মা’না) অর্থগত বর্ণনা বৈধ রয়েছে। অর্থাৎ আক্ষরিকভাবে হাদিসে কুদসি বর্ণনা করা বাধ্যতামূলক নয়।

পবিত্র কোরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা খোদ একটি ইবাদত। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পড়বে, তার জন্য একটি ছওয়াব থাকবে, আর প্রতিটি ছাওয়াব প্রদত্ত হবে দশ গুণ বর্ধিত আকারে। আমি বলি না যে, (আলিফ-লাম-মিম) একটি অক্ষর। বরঞ্চ আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মিম একটি অক্ষর।

উপরন্তু নামাজের কিরাআতেও  কেবল আল কোরআনই তিলাওয়াত করা বৈধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তোমরা কোরআন থেকে যতটুকু সহজ, ততটুকু পড়।’

পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসি পাঠের ভিন্ন কোনো ছওয়াব নেই। বরং দ্বীনি ইলম চর্চার  ক্ষেত্রে হাদিস অধ্যয়নের সাধারণ যে ছওয়াব, কেবল তা-ই হাদিসে কুদসি পাঠ থেকে আশা করা যায়। আর নামাজের তিলাওয়াতে হাদিসে কুদসি তিলাওয়াত করা আদৌ শুদ্ধ নয়।

প্রিয় ইসলাম/ আ ই