তাড়াশের জমিদার বাড়ি। ছবি- লেখক

যাবেন পাবনা, ফিরবেন কুষ্টিয়া হয়ে

আফসানা সুমী
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৭, ১৯:১৪
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৭, ১৯:১৪

(প্রিয়.কম) অনেকেই হয়তো মজার এই পথে ভ্রমণ করেছেন আবার অনেকে কাছে হয়ত বিষয়টা অদ্ভুত ঠেকছে। কারণ পাবনা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত আর কুষ্টিয়া খুলনায়। মাঝে আবার বয়ে গেছে প্রমত্তা পদ্মা। দু'টি অঞ্চল আলাদা হলেও দু'টোই পদ্মার কাছে, পদ্মাই এদের আলাদা করেছে আবার সংযুক্তও রেখেছে পদ্মাই।
 
হ্যাঁ, পাবনা ঘুরে একটা নৌকায় চড়ে নদী দেখতে দেখতে হেলতে দুলতে চলে যাবেন কুষ্টিয়া!
 
পাবনা একটি নিরিবিলি ছিমছাম শহর। শুক্রবারে আরও নিরিবিলি হয়ে যায় শহরটি। দোকানপাট বলতে গেলে সবই বন্ধ থাকে। তাই সবুজ ছাওয়া পথগুলো ধরে রিকশা বা ভ্যানে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালোই লাগে। ঢাকা থেকে পাবনাগামী বাসে চড়তে আপনাকে যেতে হবে টেকনিক্যাল। সি লাইন, সরকার ট্রাভেলস, শ্যামলীসহ আরও অনেক বাস যায় এই পথে। ভাড়া নন এসি ৩০০ টাকা এবং এসি ৫০০ টাকা। রাত ১২ টায় রওণা দিলে পাবনা টার্মিনাল পৌছতে বাজবে সকাল ৮টা।
 
জোড় বাংলা মন্দির। ছবিঃ লেখক
 
টার্মিনাল থেকে একটা রিকশা বা অটোতে প্রথমেই চলে যান জোড় বাংলা মন্দির। রিকশাভাড়া ২০ টাকা আর অটোতে ৫টাকা করে। স্থানীয়দের মতে, মুর্শিদাবাদের নবাবের তহশীলদার ব্রজমোহন ক্রোড়ী আঠারো শতকের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। ৩০০ বছরের পুরোনো ছোট্ট এই মন্দিরটি অপূর্ব কারুকার্যখচিত। তবে ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পে মন্দিরের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। এরপরও মূল অবকাঠামো এখনো দাঁড়িয়ে আছে গর্বের সাথে।
 
এখান থেকে রিকশায় চলে যান তাড়াশ রাজবাড়ী। পাবনার জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে নামকরা এবং পুরাতন বলে পরিচিত এই তাড়াশের জমিদার। বনমালী রায় বাহাদূরের নির্মিত বিশাল বাড়িটি আজও অক্ষত আছে। আমরা এক রিকশাতেই টার্মিনাল থেকে জোড় বাংলা মন্দির ঘুরে তাড়াশের বাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম। এখানেও রিকশা ভাড়া ২০ টাকাই পড়বে।
 
এরপর চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দোগাছির তাঁতিপাড়া থেকে। সেখানে পথের দু'ধারের কারখানায় তাঁতিরা কাজ করে যাচ্ছেন। কোথাও তৈরি হচ্ছে লুঙ্গি, কোথাও গামছা আবার কোথাও শাড়ি। তাড়াশের জমিদার বাড়ি থেকে আমরা রিকশায় গিয়েছিলাম ৮০ টাকা ভাড়ায়। আপনি চাইলে রিকশায় অনন্ত সিনেমা হল সেখান থেকে অটোতে দোগাছী যেতে পারেন। এতে খরচ কম পড়বে।
 
পাবনায় আরও দেখার আছে পাগলা দেওয়ান বদ্ধভূমি, বেরুয়ান জামে মসজিদ, খয়রান ব্রীজ ইত্যাদি। আমরা অবশ্য রওণা দিই শিলাইদহের দিকে। অটোতে প্রথমে টেকনিক্যাল, তারপর সেখান থেকে আবার অটোতে পদ্মার পাড়। ঘাটে যাবেন বললেই হবে। অটো ভাড়া নেবে ২৫ টাকা।
 
মীর মশারফ হোসেন সেতু আর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি-সংগৃহীত
 
নদীর তীরে ফসলী জমি, দিগন্ত জোড়া আকাশ আর নদীর হিম শীতল বাতাস এই গরমেও মনকে ঠান্ডা করে দেয়। বড় ইঞ্জিন নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে নদীর খানিকটা পথ। নদীর উপর চর পরেছে। হেটে চর পেড়িয়ে আবার নৌকা। পুরো রাস্তার নৌকা ভাড়া ২০ টাকা। এপার থেকে ভ্যানে সরাসরি শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। ভ্যান ভাড়া ১০ টাকা।
 
শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। ছবি- সংগৃহীত
 
রবিন্দ্রণাথের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, তার ব্যবহার্য আসবাব, তার স্নেহধন্য বকুল গাছের ছায়ায় সেই পুকুর আর পুকুরে তার বজরা পেছনে বাজছে তারই লেখা গান। মোহাবিষ্ট হতে আর কি চাই?
কুঠিবাড়ির প্রবেশমূল্য ২০ টাকা।
 
এখানেই একটা হোটেলে দুপুরের খাবার পেয়ে সরাসরি অটোতে আমরা রওণা হই সাঁইজির মাজারের পথে। অটো ভাড়া ২২০ টাকা। লোকাল অটোতে জনপ্রতি ৪০ টাকা। এপথেই আপনার দেখা হবে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের সাথে। আর আপনার অটোটি যাবে মীর মোশাররফ হোসেন সেতুর উপর দিয়ে। রিজার্ভ ট্যক্সি হলে নেমে ছবি তুলতে পারবেন এখানে।
 
লালন শাহের মাজার। ছবি- সংগৃহীত
 
লালনের মাজার নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছু নেই। যারা তার ভক্ত তারা জানেন এখানে কি আছে! তবে লোক সমাগম ভালো। প্রচুর মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাজারের বিপরীত দিকে আছে একটি পার্ক। সেখানেও মানুষের ভীড়।
 
এখান থেকে ১৫ টাকা অটো ভাড়ায় আমরা চলে যাই কুষ্টিয়া বাস স্ট্যান্ডে। শ্যামলী বাসে ঢাকায় ফেরার ভাড়া ৪৫০ টাকা। এখানেই হোটেলে রাতের খাবার সেড়ে নিতে পারেন।
 
সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।