ছবি সংগৃহীত

অ্যাপেন্ডিক্স আসলে অপ্রয়োজনীয় নয়

সাবেরা খাতুন
লেখক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৫৫
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৫৫

অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ‘নিরাপদ ঘর’ হিসেবেই কাজ করে অ্যাপেন্ডিক্স। ছবি: সংগৃহীত।  

(প্রিয়.কম) অ্যাপেন্ডিক্স একটি রহস্যময় অঙ্গ। এই অঙ্গটিকে অকার্যকর বিবর্তনীয় প্রত্যাবর্তন  হিসেবেই বিবেচনা করা হয় যা শুধুমাত্র অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে  মেডিকেল চিকিৎসকদের একটি দল এই ছোট্ট অঙ্গটির থাকার উদ্দেশ্য এর বিষয়ে একটি তত্ত্ব দিয়েছেন।

আমেরিকার মিড ওয়েস্টার্ন  ইউনিভার্সিটির এরিজোনা কলেজ অফ অষ্টিওপ্যাথিক মেডিসিন এর গবেষকগণ অ্যাপেন্ডিক্স নিয়ে করা এক গবেষণায় পরামর্শ দেন যে, এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংরক্ষণাগার হিসেবে কাজ করে।

অ্যাপেন্ডিক্স খুব ছোট কীটের ন্যায় একটি অংশ যা উদরের সিকাম নামক স্থানে (ক্ষুদ্রান্ত ও  বৃহদান্ত্র এর মাঝামাঝি)  থাকে। পূর্বে এটিকে বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গ হিসেবেই বিবেচনা করা হত যার মানবদেহে   তেমন কোন কার্যকারিতা নেই।  চার্লস ডারউইন প্রথম অনুমান করেন যে, এই বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গটি    বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে পাতা হজম হওয়ার কাজে ব্যবহার হত। যদিও অল্প কিছু স্তন্যপায়ী মানুষের মধ্যে এই অঙ্গটি থাকে।

এই গবেষণায় শরীর বিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক হিদার স্মিথ এবং তার দল অ্যাপেন্ডিক্স এর বিবর্তনীয় ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেন। তারা বীবর ও খরগোশ থেকে শুরু করে সাধারণ ওমবেট ও ব্রাশটেইল পোসাম পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ৫৩৩ টি সিকাম নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষকেরা জেনেছেন যে, এটি বিভিন্ন স্তন্যপায়ী জাতিতে কমপক্ষে ৩০ বার বিবর্তিত হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে একবার যদি এটি দেখা যায় তাহলে তা কখনোই অদৃশ্য হয় না। এর থেকে তারা অনুমান করেন যে, এর কিছু উপকারিতাও থাকতে পারে।

তাদের গবেষণায় তারা এটাই নির্ধারণ করার চেষ্টা করেন যে, পরিবেশগত কারণ যেমন- খাদ্য, জলবায়ু এবং  প্রাণীরা যেখানে বাস করেন তা প্রজাতির অ্যাপেন্ডিক্স থাকার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে কিনা। এর পরিবর্তে তারা দেখেন- যে প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে অ্যাপেন্ডিক্স আছে তাদের উচ্চ ঘনত্বের লিম্ফয়েড টিস্যু থাকে, যা তলপেটের সিকামে ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রধান কারণ।

গত কয়েক বছরের গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, লিম্ফেটিক টিস্যু অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। গবেষণার উপসংহারে গবেষক দলটি বলেন, এই অঙ্গটি ইমিউন  সিস্টেমের উপর কিছু ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ‘নিরাপদ ঘর’ হিসেবেই কাজ করে। অর্থাৎ এটি নিজে তেমন কোন কাজ না করলেও ‘সিকোঅ্যাপেন্ডিকুলার কমপ্লেক্স’ এর একটি অংশ হিসেবে কাজ করে।

এই তত্ত্বে তেমন কোন শক্ত ভিত্তি স্থাপিত না হলেও অবশেষে তারা প্রাণীর জীবনে অ্যাপেন্ডিক্সের কিছু ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন।

সূত্র : আই এফ এল সায়েন্স 

সম্পাদনা: কে এন দেয়া