মাগুরায় নিজ ক্ষেতের পাশে নালিম বাঙ্গি চাষী। ছবি: প্রিয় ডটকম।

মাগুরায় নালিম বাঙ্গি এখন বাণিজ্যিক ফসল

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০১৭, ১৮:৪৫
আপডেট: ০৪ জুন ২০১৭, ১৮:৪৫

(মো. ইমাম জাফর, মাগুরা) মাত্র ৯০ দিনে বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়ায় জেলার কৃষকরা এখন নালিম বাঙ্গি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। মুনাফার সহজ প্রাপ্তি জেলার কৃষকদের কাছে অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে ক্রমশ বানিজ্যিক আবাদ বাড়ছে মাঠ পর্যায়ের এই ফসলটির।

মাগুরা সদর উপজেলার মির্জাপুর, হাজরাপু, হাজীপুর, রাঘবদাড়, নড়িহাটি, ইছাখাদা, শিবরামপুর, বিরপুর, মির্জাপুরসহ অন্তত ২০টি গ্রামে এখন নালিম চাষের জন্য সুপরিচিত হয়ে উঠেছে ।

জেলার কৃষক আব্দুর রওফ, আছুমোল্লা, মালেক মোল্লা, আনান্দ কুমার বিশ্বাস, মো. রশিদ, মো. রেজাউল ইসলাম, মো. রতন আলী, ছালেক বিশ্বাস, মো. বাবলু মিয়া, মো. ওমর বিশ্বাস, মো. রইচ মন্ডল, মো. ছবুর বিশ্বাসসহ অনান্য নালিম চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি এক বিঘা জমিতে নালিম বাঙ্গি চাষে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা । বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এটির আবাদে সার বা অন্য কৃষি উপকরণ তেমন প্রয়োজন না হওয়ায় লাভ হয় বেশি । প্রতিবছর এপ্রিল-মে মাসে এটির আবাদ করে জুন মাসের মধ্যেই লাভ হাতে আসে ।

মির্জপুর গ্রামের মালেক মোল্লা জানান, এ বছর তিনি ১৪ বিঘা জমিতে নালিম চাষ করে ৪ লাখ টাকার বেশি মুনাফা আশা করছেন।

নড়িহাটির আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি লিচু ও পেয়ারা বাগানের সাথী ফসল হিসেবে চাষ হয়ে থাকে। আবাদ পদ্ধতি সাধারষণ বাঙ্গির মতোই। তার ৮ বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ বাদে এ বছর ২ লাখ টাকার মুনাফা অসবে ।

স্থানীয় পর্যায় ছাড়াও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা মাঠ থেকেই এটি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আবার অনেক সময় ব্যাপারীরা ক্ষেতসহ পাইকারি দরে কিনে নেয়, ফলে বেঁচে যাচ্ছে কৃষকদের পরিবহন খরচ।

এদিকে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে- নালিম বাঙ্গির রঙ সাধারণ বাঙ্গিরই মতোই। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ কিন্তু পাকলে গাঢ় হলুদ রং ধারণ করে, মিষ্টি ‍সুগন্ধ। বাঙ্গির মতো স্বাদের নালিম চিনিমুক্ত বলেই ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য পুষ্টিসহায়ক। নালিম ফলটি আকারটা একটু ছোট ও গোলাকার। বর্তমানে নালিম বাঙ্গির ভরা মৌসুমে প্রতিদিন মাগুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক ট্রাক নালিম ভর্তি হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

নালিম ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী বিশ্বাস জানান, রমজানে এটির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি নালিম পাইকারী ৮থেকে ১০ টাকা খুচরা ১৫ থেকে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে অনেক সময় আরও কম দামে বিক্রি হয়।

মাগুরার হাজরাপুর ইউনিয়নের কৃষি সম্প্রসারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, মাগুরায় প্রায় ১১ বছর পূর্বে লিচুর সাথী ফসল হিসেবে এই ফলটির চাষ শুরু হয়। বর্তমানে অত্র এলাকার কৃষকদের মাঝে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাগুরার সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রুহোল আমিন জানান, নালিম বাঙ্গি সাধারণ অনুরূপ একটি ফল। নালিম এটির স্থানীয় নাম। এটির বানিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এটির চাষ আরও বাড়বে। আমরা সে লক্ষ্যে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি ।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/কামরুল