প্রিয় গন্তব্য: মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
None
প্রিয় গন্তব্য: মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণা

ছবি সংগৃহীত

 খৈয়াছড়ার অনেক গুলো ধাপের একটি ধাপ। ছবি: সংগৃহীত।
 
(প্রিয়.কম): বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় ঝর্ণাগুলোর তালিকা করলে মীরসরাই পাহাড় রেঞ্জ এর খৈয়াছড়া ঝর্ণা এই তালিকায় উপরেই থাকবে। অনেক গুলো ধাপ নিয়ে গঠিত এই ঝর্ণাটি সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ১২০০ ফুট উপরে উঠে গেছে বলে জানা যায়। আরও যে বিষয়টা এই ঝর্ণাটিকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে তা হল ঢাকা, চট্টগ্রাম এলাকা থেকে এটি এক দিনে ঘুরে আসা যায়। সামনেই আসছে বর্ষা, ঝর্ণায় পানি থাকবে টৈ-টম্বুর। যে কোন ঝর্ণায় যাবার জন্য সেরা সময় বর্ষা।
 
ঝর্ণার দিকে হেঁটে যাবার সময় পাওয়া যাবে এরকম ধানক্ষেত আর সবুজ প্রান্তর। ছবি: সংগৃহীত।
 
কোথায়: চট্টগ্রামের খুব কাছেই মীরসরাই রেঞ্জ। ঢাকা থেকে যাবার সময় মীরসরাই পার হয়েই শহরে ঢুকতে হয়। মীরসরাই এর বরতাকিয়া এলাকাতেই এই ঝর্ণাটি। প্রায় ৫০ বছর আগে পাহাড়ি ঢলের ফলে এই ঝর্ণাটি তৈরি হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। তবে মানুষজনের চলাচল সেভাবে না থাকায় ২০১০ সাল পর্যন্ত সবার কাছে এই ঝর্ণার অস্তিত্ব গোপনই ছিল। ২০১০ সালে সরকার বারৈয়াঢালা ব্লক থেকে কুন্ডেরহাট (বরতাকিয়া) ব্লকের ২৯৩৩.৬১ হেক্টর পাহাড়কে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করায় খৈয়াছড়া র্ঝণা জাতীয় উদ্যানের আওতাভুক্ত হয়।
 
কীভাবে: ঢাকার সায়দাবাদ থেকে চট্টগ্রাম-গামী গাড়ি নিয়ে সহজেই চলে যাওয়া যায় এই লোকেশনে। গাড়ির সুপারভাইজারকে বলতে হবে বরতাকিয়া খৈয়াছড়ায় নামিয়ে দিতে। টিকিট গাড়ি ভেদে ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা নিতে পারে। বরতাকিয়ায় নামলে অনেক সিএনজি পাবেন ভেতর পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এর পরে প্রায় কিলোমিটার খানিক রাস্তা হাটতে হবে। ঝর্ণায় পৌঁছোবার জন্য আপনি স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিতে পারেন। ৩০০ থেকে শুরু করে ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে তার খরচ। মূল সড়কে নামলেই অনেকেই গাইড হতে চাইবে, দরাদরি করে খরচ এবং শর্ত ঠিক করে নিন।
 
যাবার পথে হাঁটতে হবে ঝিরিপথে। তাতে বয়ে চলে বরফ শীতল পানি। ছবি: সংগৃহীত।
 
কী দেখবেন: খৈয়াছড়ায় অনেকেই প্রথম ধাপে এসে খানিক পানিতে ভিজে ফিরে যান। কিন্তু আসলে প্রথম ধাপ থেকেই সব মজার শুরু! প্রথম ধাপের বাম পাশে খাড়া ভাবে উঠে গেছে একটা দেয়াল মত, সেটা বেয়ে উঠতে হয়, কখনও শেকড় ধরে, বিভিন্ন ছোট ছোট গর্তে পা দিয়ে। প্রতি মুহূর্তে আপনার মনে হবে আপনি এই বুঝি পড়ে গেলেন। এভাবে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আপনি আস্তে আস্তে উঠতে থাকবেন উপরে। পথে মাঝে মাঝে একটা দুটো প্রাকৃতিক পুকুর পাবেন, যেখানে মনে চাইলে একটু ডুবে নিতেই পারেন আপনি। কয়েক ঘণ্টা সময়ের মাঝেই একদম উপরে উঠে আবার ফিরে আসতে পারবেন আপনি। তবে নেমে আসাটাও আর একটা এডভেঞ্চার বিশেষ।
 
সাথে ব্যাগ থাকা জরুরী হলেও ঝর্ণায় যাওয়া এবং আসার সময় সবচেয়ে ভাল হবে ভারী কোন ব্যাগ সাথে না রাখা। পথেই বিভিন্ন ঘরোয়া রেস্তরা পাবেন, যেগুলোতে আপনারা দুপুরের খাবার খেতে পারবেন এবং যাদের কাছে খুব নিরাপদ ভাবেই নিজেদের ব্যাগ গুলো জমা রেখে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যেতে পারবেন। তবে টাকা পয়সা এবং মোবাইল নিজের সাথে রাখাই নিরাপদ।
 
সবচেয়ে উপরে উঠে গেলে পেয়ে যাবেন এরকম একটি ছাউনি। ছবি: সংগৃহীত।
 
সাবধানতা: বর্ষায় এসব এলাকা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বিশেষ করে পিছলে যাবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তাই ভাল গ্রিপের জুতা পড়ে যাওয়াটা নিরাপদ হবে। সাথে বাড়তি এক দুই সেটা জামা কাপড় সাথে নেয়া ভাল হবে এবং যেহেতু বর্ষা কাল, বৃষ্টি যে কোন সময়ই হতে পারে, তাই কয়েকটা প্লাস্টিকের ব্যাগ সাথে থাকলে কাজে দেবে।
 
এই এলাকায় ট্যুরিজম সেভাবে গড়ে ওঠেনি, তাই ভাল থাকার জায়গা নেই তেমন একটা। চাইলে এক দেড় ঘণ্টায় বাসে করে সহজেই চট্টগ্রাম শহরে চলে যেতে পারেন যেখানে রাতে থাকার জন্য প্রচুর উপায় আছে। সেটা তুলনামূলক নিরাপদও হবে।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
 
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।