ছবি সংগৃহীত
ফাইব্রোমায়ালজিয়ার কার্যকরী সমাধান
আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৭, ১৫:৫৪
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ফলে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ব্যথা কমে। ছবি সংগৃহীত।
(প্রিয়.কম) দীর্ঘমেয়াদী ব্যথাই হচ্ছে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার লক্ষণ। তবে হঠাৎ করে শরীরের যেকোন অংশে তীব্র জ্বলুনিও হতে পারে এর লক্ষণ। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস সাউথ ওয়েস্টার্ন মেডিকেল স্কুল এর ক্লিনিক্যাল প্রফেসর ও এমডি স্কট জাসিন বলেন, ‘কেউ এটা নিয়েই জীবন অতিবাহিত করে, আবার কেউ কাজই করতে পারে না’। এর অন্য লক্ষণগুলো হচ্ছে, ক্লান্তি, বমিবমি ভাব এবং মাথাব্যথা।
ওয়াশিংটন এর জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটি এর চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ও এমডি ব্রায়ান অয়ালিট বলেন, ফাইব্রোমায়ালজিয়া হওয়ার কারণ ‘কেউ জানেননা’। একটি মতবাদে বলা হয় যে, ২-৪ শতাংশ মানুষে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ব্যথার উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বিকৃতির কারণে। ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার উপায় খুঁজতেই কয়েকমাস লেগে যায়। ফাইব্রোমায়ালজিয়ার নিরাময়ের ক্ষেত্রে কার্যকরী কিছু সমাধান জেনে নিই চলুন।
১। ম্যাগনেসিয়াম
এই খনিজ উপাদানটির (যা পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজি, মাংস এবং দুধে) অভাবে পেশীর টান বা সংকোচন বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই তুর্কি গবেষকগণ ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত নারীদের আট সপ্তাহ যাবৎ ৩০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করতে দেন, ব্যথা কমার জন্য।
২। ইয়োগা
একটি ছোট পরীক্ষামূলক গবেষণায় কিছু নারীকে সপ্তাহে ২ ঘন্টা ইয়োগা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করানো হয় এবং বাসায় প্রতিদিন ২০-৪০ মিনিট এর অনুশীলন করতে বলা হয়। দেখা যায় যে, এর ফলে তাদের ৩১ শতাংশ ব্যথা ও ক্লান্তি কমে যায়। পোর্টল্যান্ড এর অরিগন হেলথ এন্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি এর কম্প্রিহেন্সিভ পেইন সেন্টারের পিএইচডি গবেষক এবং গবেষণার দলনেতা জেমস ডব্লিউ কার্সন বলেন, শ্বাস কৌশল শিথিলিকরন প্রক্রিয়াকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে ব্যথার বার্তাকে পরিবর্তিত করতে পারে।
৩। ম্যাসাজ
২০১০ সালের স্পেনের করা এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সপ্তাহে ৯০ মিনিটের ম্যাসাজ যাকে মায়োফেসিয়াল রিলিজ বলা হয়, করানো হয় এবং তাদের ব্যথা ও উদ্বিগ্নতা কমতে দেখা যায়। পেশী এবং অঙ্গের চারপাশে ফেসিয়া নামক সংযোগ কলা থাকে যা ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে টাইট হয়ে যায় এবং ব্যথা বৃদ্ধি করে। কিন্তু এ ধরনের ম্যাসাজের ফলে ফেসিয়ার টাইট বেন্ডগুলো পৃথক হয় এবং এদের নরম হতে সাহায্য করে বলেন – পেনসিলভেনিয়া এর সারটিফায়েড নিউরোমাস্কুলার থেরাপিস্ট ন্যান্সি এম পোরাম্বো।
৪। ওজন কমানো
সামান্য ওজন কমানোর ফলে আপনার উপসর্গ কমতে পারে এবং ফাইব্রোমায়ালজিয়া হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। ২০১০ সালের নরওয়ের এক গবেষণায় গবেষকেরা জানিয়েছেন যে, স্থূলকায় নারীদের ফাইব্রোমায়ালজিয়া হওয়ার ঝুঁকি ৬০-৭০ শতাংশ বেশি স্বাভাবিক গড়নের নারীদের তুলনায়। এর কারণটি অবশ্য পরিষ্কার নয়। ডা. জাসিন বলেন, ‘অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টের উপর ক্লান্তি ও স্ট্রেস ফেলে, যার কারণে ব্যথা বৃদ্ধি পায়’। ভালো খবর হচ্ছে – একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় জানা গেছে যে, শরীরের ওজন ৪.৪ শতাংশ কমানোর ফলেই উপসর্গ কমতে সাহায্য করে।
৫। নড়াচড়া
ব্যথার সময়ে ব্যায়াম করাটা খুব কঠিন, তবে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদালয়ের গবেষকেরা জেনেছেন যে, শারীরিক সক্রিয়তা রোগীদের ৩৫ শতাংশ ব্যথা কমিয়ে দেয়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও জানা যায় যে, শারীরিক কাজের ফলে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার সাথে সম্পর্কিত ব্যথা কমে, বিষণ্ণতা সহজ হয় এবং ক্লান্তি কমে।
৬। টক থেরাপি
আপনার চিন্তাভাবনা এবং কাজের বিষয়ে একজন থেরাপিস্ট এর সাথে কথা বলা আপনার শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গগুলোকে সহজ করতে সাহায্য করবে।
সূত্র : প্রিভেনশন
সম্পাদনা :কে এন দেয়া
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- লাইফ
- ব্যথা কমানো
- সুস্থ থাকুন