ছবি সংগৃহীত
হজসেবায় হালাল উপার্জন সম্ভব: কাজী শফিকুল ইসলাম
আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৭, ০৫:০২
কাজী মোহা. শফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) কাজী মোহা. শফিকুল ইসলাম- একাধারে তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক, সংগঠক, সমাজসেবক ও তরুণ ব্যবসায়ী। সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের সূচনা ঘটলেও পুরোদস্তুর তিনি এখন হজসেবামূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কাজী শফিক হজ গ্রুপের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে মাস্টার্স পাশ করার পর নিরন্তর যুক্ত ছিলেন লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায়। একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন জাতির আলো, দৈনিক আজকালের খবর, দৈনিক সুনাম কণ্ঠ, দৈনিক ডেসটিনি এবং জনতার কণ্ঠে।
লেখালেখি, সংবাদ সংগ্রহ এবং সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক-আর্তমানবতাবাদি কার্যক্রমে সরব পদচারণা ছিলো কাজী শফিকের। ইসলামিক জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ, সিলেট লেখক ফোরামের মতো সুপরিচিত সংগঠনগুলো তারুণ্যদীপ্ত সাংবাদিক কাজী শফিকের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান। ছাত্রজীবন থেকে মানবাধিকার আন্দোলনের সাথেও তিনি জড়িত। হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ নামক একটি মানবাধিকার সংগঠনের খুব গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ কয়েক বছর দায়িত্ব ও কার্যক্রমমুখরতার সাথে জড়িত ছিলেন।
কাজী মোহা. শফিকুল ইসলামের আপাদমস্তক জুড়ে এখন শুধু একটাই ধ্যান-জ্ঞান এবং একটাই স্বপ্ন- জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর ঘরের সম্মানিত মেহমানদের খেদমতে নিয়োজিত থাকা। হজ ও হাজিদের সেবা প্রদানকেন্দ্রিক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন প্রায় দশ বছর যাবৎ। হাজি নিয়ে সৌদি আরবে গমন করা ছাড়াও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, কাতার, আরব আমিরাত, ভারতসহ বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেছেন কাজী শফিক। নানাবিধ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সাংবাদিকতা, ভাষা ও মানবাধিকারের ওপর বিভিন্ন খণ্ডকালীন কোর্সও তিনি সমাপ্ত করেন।
কাজী শফিকের পিতা আলহাজ কাজী মাওলানা শাহেদ আলী জাতীয় পদকপ্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সুপার এবং মাতা মাজহুরা বেগম একজন দা’ঈ। এছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় রয়েছে কাজী শফিকুল ইসলামের, আর তা হলো- সৌদি আরবের মক্কা মোকাররমায় হারাম শরিফস্থ তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার সম্মানিত উস্তাদ আলহাজ হাফিজ দোস্ত মোহাম্মাদ শেখ তার শশুড়।
পর পর বেশ কয়েক বছর কাজী শফিকের নেতৃত্বে তার প্রতিষ্ঠান সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সেরা হজ সেবা সনদ ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং সৌদি আরবের মোয়াসসাসার সার্ভিস অফিস কর্তৃক মোতাওয়াফের সম্মানিত দায়িত্ব লাভ করেও ধন্য হয়েছেন তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক পরিষদ অ্যাওয়ার্ড, ইউনিটি ফর ইয়ং জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সম্মাননা, বাংলাদেশ পর্যটন বিকাশ কেন্দ্র সম্মাননা, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ সম্মাননা, স্বাধীনতা সংসদ সম্মাননা, শিক্ষা সপ্তাহ সম্মাননা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সম্মাননা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্মাননা, ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি সম্মাননা এবং হজ সেবা অ্যাওয়ার্ডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ধর্ম মন্ত্রীর সাথে কাজী শফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
প্রিয়.কম : আপনার এজেন্সির তত্ত্ববধানে মূলত কী কী কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সংক্ষিপ্তভাবে কিছু বলুন।
কাজী শফিক : আমাদের এজেন্সি মূলত হজকেন্দ্রিক সামগ্রিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছে। ওমরা এবং হজবিষয়ক সকল কার্যক্রম আমাদের এজেন্সি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে করে থাকে। এর মধ্যে পবিত্র হজব্রত পালন, ওমরাহ হজ, সৌদি আরবে যাতায়াতের ভিসা ও টিকেটিং ব্যবস্থাপনা, বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী স্থানে থাকা, বাঙালি খাবারের ব্যবস্থাপনা, দক্ষ মুয়াল্লিম দ্বারা হজের কার্য সম্পাদন করানো এবং ইসলামি স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো জিয়ারার ব্যবস্থাসহ হজ বিষয়ক প্রশিক্ষণসহ সার্বিক কার্যক্রম আমরা দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালনা করে থাকি। এছাড়া সফররত হাজিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আমি নিজে প্রতি বছর হাজিদের সাথে হজ পালন করি। আমরা হাজিদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকি। এছাড়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের আরো একটি দিক রয়েছে, আর্তমানবতার সেবায় আমরা সর্বদা নিয়োজিত প্রাণ। আলহামদুলিল্লাহ, যে কোনো ধরনের দুর্যোগকালীন বা বিভিন্ন সময় আমাদের প্রতিষ্ঠান মানবতার সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক সভা-সেমিনারের আয়োজনও আমরা করে থাকি।
প্রিয়.কম : একজন আলেম হিসেবে মসজিদ-মাদরাসায় যুক্ত না হয়ে আপনি কেন হজসেবামূলক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হলেন ?
কাজী শফিক : হজ একটি ইবাদত। হজসেবামূলক ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমি মনে করি, হজ সম্পর্কিত বিধি-বিধানের জ্ঞান থাকা খুবই জরুরি। তথাপি হজসেবামূলক কার্যক্রমে আলেম-ওলামা সংশ্লিষ্টতা একেবারেই নগণ্য। বাংলাদেশে সব বড় বড় হজ এজেন্সির মালিক সাধারণ মানুষ। হাজিদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং সুষ্ঠুভাবে হজ পরিচালনার জন্য দায়িত্বরত এজেন্সির ভূমিকা অনেকাংশে জড়িত। তাই আলেম ওলামাদের তত্ত্বাবধানে হজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা সময়ের দাবি। কারণ, সততার সঙ্গে আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যাবতীয় খেদমতের আঞ্জাম দেয়ার লক্ষ্যেই আমাদের প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। একইসঙ্গে বিশ্বস্ততার সাথে হাজিদের খেদমতের জন্য হজকেন্দ্রিক সার্র্বিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই আমার এ ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়া। পাশাপাশি কিছু অসাধু এজেন্সি সম্মানিত হাজিদের টাকা নিয়ে লোপাট করার ফন্দিতে থাকে। সেইসব এজেন্সিতে গিয়ে যেন কোনো হাজি প্রতারিত না হতে পারেন। এসব কথা চিন্তা করেই একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত হজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রত্যয়ে আমি এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক থেকে সম্মাননা নিচ্ছেন কাজী শফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
প্রিয়.কম : আমরা দেখেছি, অনেক কম পুঁজিসম্পন্ন এজেন্সি ব্যবসায়ী হাজী পাঠানোর কাজ শুরু করার পরই কয়েক বছরের মধ্যে রাতারাতি ধনী বনে যান। অনেকে প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বিরাট অংকের বেতন বা সম্মানী গ্রহণ করেন। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন ?
কাজী শফিক : এ ধরনের এজেন্সিগুলো সারাদেশে কমিশনের ভিত্তিতে কিছু লোক নিয়োগ দেয়। তারা হাজি সংগ্রহ করে থাকে। তারপর এজেন্সিগুলো নিজেদের মনমর্জি মতো করে হজসেবা প্রদান করে থাকে। হাজিদের যে ধরনের সুবিধা দেয়ার কথা থাকে, তারা তা সঠিকভাবে প্রদান করে না। বরং অধিক মুনাফার আশায় হাজিদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং নানান কথা বুঝিয়ে হাজিদের মন জুগিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে হাজিসাহেবগণ অপারগ থাকেন। দুঃখ-কষ্ট সয়ে যান। বিশেষভাবে বলতে হয়, অসাধু প্রকৃতির কিছু এজেন্সি নানা ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে খুব অল্প সময়েই ধনী বনে গেছেন। তাদের অধিকাংশরাই বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। অনেকেই লবিংয়ের মাধ্যমে হাজি সংগ্রহ করে এ ব্যবসায় করে ধনী বনে গেছেন। তারা মূলত সেবামূলক দৃষ্টিতে এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি। বরং তারা কীভাবে ধনী হওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাদের এ কার্যক্রম কোনোভাবেই বৈধ বা হালাল হবে না। আমার পক্ষ থেকে এমন হজ ব্যবসায়ী ভাইদের প্রতি একটি বিশেষ আবেদন হলো- তারা যেন এমন হীন মানসিকতা ত্যাগ করে সেবার মানসিকতা নিয়ে হজ ব্যবসা পরিচালনা করেন। কারণ কিছু সংখ্যক এমন ব্যবসায়ীদের কারণে গোটা হজ এজেন্সির দুর্নাম হচ্ছে।
প্রিয়.কম : হজ করতে আগ্রহী মানুষ অন্য প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে আপনার এখানে কেন আসবে ?
কাজী শফিক : হজ গমনেচ্ছু সবারই নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। সবার ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা ও সামর্থের ওপর ভিত্তি করেই হজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে হজ বিষয়ক ব্যয়ের তারতম্য রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে খুবই যত্নশীল। সম্মানিত হাজিদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান বদ্ধপরিকর। হাজিদের সামর্থের ওপর ভিত্তি করে আমাদের হজসেবা কার্যক্রম পরিচালনা হয়। অধিক মুনাফা লাভের আশায় আমরা কখনো হাজিদের দেয়া অঙ্গীকারের বরখেলাপ করি না। কেননা, খেদমতের উদ্দেশ্য থেকেই আমার হজসেবায় নিযুক্ত হওয়া। আল্লাহর রহমতে অনেক হজ এজেন্সি থেকে আমাদের সেবা অনেকাংশে সন্তোষজনক। হাজিদের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে আমরা মতামত গ্রহণ করে থাকি। সফররত অবস্থায় কী কী সমস্যা হতে পারে বা কীভাবে তা সমাধান করবেন এসব বিষয়ে আমরা তাদের অবহিত করি এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা সমাধানের চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে ভালো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তাই বলতে পারি, আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে কোনো হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তির প্রতারিত হওয়া বা ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সেই সঙ্গে আমরা হাজিদের যে সেবা প্রদান করার কথা আমরা বলি, সেরূপ সেবাই আমরা হাজিদের প্রদান করে থাকি। সুতরাং, এসব কারণে তারা আামদের মাধ্যমে প্রকৃত সেবা পেতে পারেন এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হজসেবা গ্রহণ করতে পারেন। আমি বলবো না যে আমাদের প্রতিষ্ঠান সর্বোত্তম তবে আমি একথা অবশ্যই বলবো যে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আলাদা একটি স্বকীয়তা রয়েছে।
প্রিয়.কম : হজ ব্যবসা ছাড়া আপনি আর কী কী কাজ ও কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন ?
কাজী শফিক : ছাত্রজীবন থেকেই আমি সংগঠন প্রিয় মানুষ। বেশ কিছু সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি এবং জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু সামাজিক ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। এছাড়া আর্থ সামজিক উন্নয়নমূলক অনেক কাজের সাথে জড়িত ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশা আল্লাহ।

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ থেকে সেরা হজসার্ভিসের সনদ নিচ্ছেন কাজী শফিকুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
প্রিয়.কম : আপনার হজ এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সিসহ যেসব কার্যক্রম এই প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে, সে-ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানে কোন বিষয়কে মূলনীতি হিসেবে মানা হয় এবং কেন? এবং সেই মূলনীতি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে?
কাজী শফিক : আমি আমার হজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানটিকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মূলনীতির আলোকে পরিচালনা করে থাকি। মূলনীতি হিসেবে সেবা দেয়ার মানসিকাতায় সর্বাগ্রে। বিশেষ করে আমার এজেন্সি থেকে আলেম উলামা যুবকসহ সকল সেবাগ্রহণকারীদের আমরা সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে থাকি।
প্রিয়.কম : হজ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি মহান ইবাদত। এই ইবাদতকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে অর্থ উপার্জন করা হালাল হবে কী না?
কাজী শফিক : মহান আল্লাহ তার সামর্থবান বান্দার জন্যই হজকে ফরজ করেছেন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আর্থিক সামর্থ্যবানদের কথা বলা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, হজসেবার সঙ্গে আর্থিক-লেনদেন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পৃক্ত। তবে ইবাদতের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেই হজ ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। হজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে অর্থ উপার্জন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা নেই। উক্ত উপার্জন অবশ্যই হালাল হবে। কেননা, হজ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সেবামূলক ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত। এখানে সেবার ধরন অনুযায়ী মুনাফা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেবার তারতম্য এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এ ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ কোনোভাবেই হালাল হবে না। একইসঙ্গে হজসেবার খরচের সঙ্গে মুনাফার সমন্বয় না করা হলে তা হাজিদের প্রতি যুলুম করা হবে। যার ফলে অধিক মুনাফা অর্জন কোনোভাবেই হালাল হবে না। কেননা, এখানে সেবার সঙ্গে খরচের সমন্বয় করা হয়নি। বরং খরচ অনুপাতে হাজিগণ যেসব সুবিধা পাবার কথা, তা তারা পাচ্ছে না।
সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী