সুন্দর পরিবেশ পেলে প্রেম নিবেদন করতে দোষ কি! ছবি- সংগৃহীত

ভদ্রস্থ ডেটিং প্লেস!!!

আফসানা সুমী
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৭, ১৩:১৮
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৭, ১৩:১৮

(প্রিয়.কম) প্রিয়জনের সাথে একান্ত সময় কাটাতে কে না চায়? সেটা সম্পর্কের জন্য জরুরীও। কিন্তু সেই সময় কাটানোটা অবশ্যই হতে হবে আনন্দদায়ক, বিব্রতকর নয়। ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরা অন্যায় কিছু নয়, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রতিটা বিষয়ই দাবি করে নিজস্ব আড়াল।
 
শহরে একটু বসবার, নিরিবিলি দু'টো কথা বলবার জায়গার এতই অভাব যে প্রেমিক জুটিকে দেখা যায় যে আবছায়া জায়গাতেই বসে পড়তে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ প্রাঙ্গন, পার্ক এসব জায়গাকে তারা বেছে নেন ডেটিং প্লেস হিসেবে।
 
পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্রগুলো অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডারই জায়গা। কিন্তু দিনে দিনে এসব জায়গার পরিবেশ হয়ে গেছে মারাত্মক খারাপ। ভদ্রভাবে বসে গল্প করার কোনো অবকাশ নেই এখানে। অনেক যুগলকে দেখা যায় পাবলিক প্লেস হওয়ার পরও তাদের ব্যক্তিগত চর্চা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে যা অন্যদের জন্য বিব্রতকর।
 
আবার নানান হয়রানির শিকারও হতে হয় অনেক যুগলকে। বোটানিকাল গার্ডেন, ন্যাশনাল পার্কের মতো জায়গা গুলোতে হঠাত মোবাইলে ছবি তুলে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিয়ে টাকা চাওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। হকাররা খাবার নিয়ে যাবে আপনি যেখানে বসে আছেন সেখানে আর আপনাকে বাধ করবে তাদের খাবার পানীয় ক্রয় করতে।
 
অনেক পার্কে তো অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে ছাউনি দেওয়া ঘর ভাড়া দেওয়া হয়। রেস্টুরেন্টের একপশে বোর্ডের চার দেয়ালের ভাড়া কিন্তু লাগামছাড়া! দরদাম করে ভাড়া ঠিক করা হলেও বের হওয়ার সময় ব্লাকমেইল করে নিয়ে নেওয়া হয় পুরো মানিব্যাগটি!
 
তো এই যখন ঢাকার সুন্দর মনোরম জায়গাগুলোর অবস্থা তখন সেখানে ঘুরতে গেলে দালালদের কাছে এদেরই একজন বলে গণ্য হবেন। আর শিকার হবেন হেনস্তার।
 
আপনার জন্য ভদ্রস্থ ডেটিং প্লেস হতে পারে এই জায়গাগুলো-
 
রেস্টুরেন্টগুলোও কিন্তু বেশ রোমান্টিক! ছবি- সংগৃহীত
 
জিন্দা পার্ক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এই পার্কের অবস্থান। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, গোছানো চারপাশ, কোন নোংরামি নেই, নেই বিব্রত হওয়ার ভয়। এলাকাবাসীর আপ্রাণ চেষ্টায় পার্কটি সবসময়ই থাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজে শ্যামল!
 
নুহাশ পল্লী
গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে যেতে পারেন প্রিয়জনকে নিয়ে। ঘুরে এলেন হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিঘেরা জায়গাটি। ছিমছাম এই জায়গাটিতেও একান্ত সময় কাটাতে কোনো বাঁধা নেই।
 
জল জঙ্গলের কাব্য
চমৎকার জনপ্রিয় একটি রিসোর্ট। গ্রামের পরিবেশ সম্পূর্ণ অবিকৃত রেখে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। দেশি খাবার খাবেন, গান শুনবেন সারাদিন নিজের মতো সময় কাটাবেন। কোনো বাঁধা নেই।
 
মাওয়া
প্রিয়জনকে নিয়ে চলে যেতে পারেন মাওয়া ফেরিঘাট। নৌভ্রমণ, বেড়ানো সবই হতে পারে একসাথে। নদীর তীরবর্তী পদ্মা রিসোর্ট, মাওয়া রিসোর্টেও ঘুরে আসতে পারেন। শুধু প্রবেশ ফি দিয়ে সময় কাটাতে পারবেন এখানে।
 
লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লার পরিবেশ এখন বেশ ভালো। নতুন করে সাজানো হয়েছে কেল্লাটি, তাই কেল্লাটি দেখতেও হয়েছে বেশ সুন্দর। প্রিয়জনকে নিয়ে ছবি তুলে আড্ডা দিয়ে কাটতে পারে ভালো সময়। এরপর না হয় পুরান ঢাকায় সেরে নিলেন খাওয়াদাওয়া পেট পুরে।
 
বুড়িগঙ্গা
হ্যাঁ, খুব নোংরা নদী। তবে বর্ষায় নদীর রূপ কিন্তু দেখার মতো। নৌকায় করে সানন্দে ঘুরে বেড়াতে পারেন। উপভোগ করতে পারেন নদী আর এর তীরবর্তী অঞ্চলের প্রকৃতিকে। তবে সাবধান, ছাউনি দেওয়া নৌকায় উঠবেন না।
 
দিয়াবাড়ি
উত্তরার দিয়াবাড়িকে এখন আর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। প্রিয়জনকে নিয়ে এক দিনের ভ্রমণে চলে যেতে পারেন এখানে।
 
রেস্টুরেন্ট
দূরে কোথাও যেতে না চাইলে বেছে নিতে পারেন রেস্টুরেন্টগুলোকে। রুফটপ রেস্টুরেন্টে হতে পারে রোমান্টিক আড্ডা। এখনকার রেস্টুরেন্টগুলো বেশ সাজানো গোছানো হয়। একেকটার থাকে মজার মজার থিম। কোনটাতে আঁকা পটচিত্র, কোনটা ছাওয়া গাছে, কোনোটা নাকি ভুত রেস্তোরাঁ! মিউজিক ক্যাফেও আছে।
 
শান্তিমতো প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা বলার জায়গা একটু খুঁজলেই পাবেন। অন্তরঙ্গতাটা না হয় থাকুক একান্ত ব্যক্তিগত, শুধু আপনাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ!
 
সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।