ছবি সংগৃহীত
গান আমার ইমোশনের জায়গা: বেলাল খান
আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৩:০৬
বেলাল খান। ছবি: রিয়াজ আহমেদ, প্রিয়.কম
(প্রিয়.কম) বেলাল খান। গত বছর সংগীতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ভেলেন্টাইন ডে এবং তার সংগীত জীবন নিয়ে কথা বলেন প্রিয়.কম এর সঙ্গে। চলুন শোনা যাক তার জীবনের গল্প।
প্রিয়.কম: আপনার ছোটবেলা নিয়ে কিছু বলুন।
বেলাল খান: ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের প্রতি একটা নেশা কাজ করতো। যেখানেই মিউজিক শুনতাম সেখানেই দাঁড়িয়ে যেতাম। চা স্টলে, কোনো স্টুডিওতে, অচেনা কোনো বাড়িতে, মিউজিক শুনলেই দাঁড়িয়ে খুব মন দিয়ে গানটা শুনতাম। গানটা কে গাইছে, গীতিকার কে, অ্যালবামের নাম কী, অ্যালবামে কয়টি গান আছে, এই সব দেখতাম ও খোঁজ খবর নিতাম।
প্রিয়.কম: গান শিখেছেন কার কাছ থেকে?
বেলাল খান: আমার পরিবার খুব ধার্মিক। গান বাজানো তো দূরের কথা, গানের কথা বলাও ছিল পাপ। তারপরও চুপ করে আমাদের গ্রামে গানের যত অনুষ্ঠান হতো সেগুলো শুনতাম। অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত রাতের বেলায় হয়। আসলে গান বিষয়টা আমার মধ্যে ঔষধের মতো কাজ করতো। ছোটবেলার কোনো অভাববোধ হলে, নতুন কোনো গান শুনে সেই অভাব দূর করতাম। গান হলো আমার ইমোশনের জায়গা। কখনো কারো কাছে গান শেখা হয়ে উঠেনি। বাড়িতে যেহেতু গান নিয়ে কিছু করার কোনো উপায় ছিল না। তাই চিন্তা করলাম আমাকে ঢাকায় যেতে হবে। এমনও হতো লোকাল বাস দিয়ে কোথাও যাচ্ছি, নতুন কারো কোনো গান কানে আসলে আমি বাস থেকে নেমে যেতাম।
প্রিয়.কম: ঢাকায় এসে কীভাবে কী করলেন?
বেলাল খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে বন্ধুদের একটা সার্কেল পেয়েছিলাম। এই সার্কেলটা ক্যাম্পাসে গান করতো, গান নিয়ে রিসার্চ করতো। আমি তাদের সাথেই গান নিয়ে কাজ শুরু করে দিলাম। মাঝে মাঝে ক্ষ্যাপেও যেতাম। এই ক্ষ্যাপে বিভিন্ন প্রোগ্রামে (যেমন বিয়ে, গায়ে হলুদ ইত্যাদি) গান গেয়ে ৫০০-১০০০ টাকা করে পেতাম। কোনো কোনো প্রোগ্রামে টাকা পেতাম না, শুধু খাওয়া দাওয়া করিয়ে বিদায় দিত। এভাবে কাজ করতে করতে যখন গানের ভিতরের বিষয়গুলো জানা হয়ে গেল তখন সুযোগ খুঁজতে শুরু করলাম। এক সময় আমার এক ছোট ভাই মুঈন বিশ্বাস ‘পাগল তোর জন্য’ পরিচালক এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। তাকে আমার লেখা একটা গান দেখালে সে খুব পছন্দ করলো এবং আমাকে গানটি কম্পোজ করতে বললো। পাশাপাশি কো-আর্টিস্টের জন্যও করতে বললেন। তখন ন্যান্সির জন্য গানটি বানাই।

বেলাল খান। ছবি: রিয়াজ আহমেদ, প্রিয়.কম
প্রিয়.কম: ভ্যালেন্টাইন ডে এর জন্য প্রকাশিত ‘দোজখ’ শিরোনামের গানটি সম্পর্কে কিছু বলুন?
বেলাল খান: আমি আসলে একটু ভিন্নভাবেই চিন্তা করেই গানটি করেছি। গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর এক ঘন্টার মধ্যে আমার ইনবক্সে লিখেছে, ‘ভাই আপনার এই গানটির ভিতর আত্মশুদ্ধি একটি ব্যাপার আছে। আমার বাবা আপনার জন্য অনেক দোয়া করেছেন, তিনি আপনার ছবি দেখতে চেয়েছেন।’ গানটা আমার খুব যত্ন দিয়ে করা। এই টেক্সটা পাওয়ার পর মনে হচ্ছে পরিশ্রম বিফলে যায়নি। আমার পরিবার ধার্মিক পরিবার বলে এই গানটা করে শান্তিও পাচ্ছি।
প্রিয়.কম: আপনি তো গতবছর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। দায়িত্ব তো বেড়ে গেল…
বেলাল খান: হ্যাঁ। আপনাদের দোয়ায়। চেষ্টা করছি গানের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন কিছু করতে। যদি শ্রোতারা আমাকে আন্তরিকতা দেখায় তাহলে একটা পরিবর্তন আল্লাহ চাইলে আনার চেষ্টা করবো।
প্রিয়.কম: গান করার পাশাপাশি অন্য কিছু করেন?
বেলাল খান: না। সময় তো পাওয়া যায় না। আমি গান নিয়ে থাকি। আমার খাওয়া ঘুম সবই গানকে ঘিরে।
প্রিয়.কম: শ্রোতা দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?
বেলাল খান: বাংলা গানকে বুকে ধারণ করতে হবে। বাংলা গান শুনতে হবে। এখন তো ভাষার মাস, বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, ভাষা শহিদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য হলেও আমরা যেন বাংলা গানগুলো বাজাই। সেটা ইউটিউব, মিউজিক অ্যাপস, সিডি, ক্যাসেট বা যার যেভাবে গান সংগ্রহ করে রাখা আছে, আসুন আমরা গানগুলো অন্তত আরো একবার বাজিয়ে শুনি। এতে করে দেখবেন নতুন ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারবে যে আমাদের ভাষা কতোটা সমৃদ্ধ।
প্রিয়.কম: ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেওয়ার জন্য।
বেলাল খান: আপনাকেও ধন্যবাদ। সকল ভাষা শহিদের জন্য রইলো ভালোবাসা। বাংলা ভাষার জয় হোক, বাংলা গানের জয় হোক।
সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী
- ট্যাগ:
- বিনোদন
- সাক্ষাৎকার
- গান
- বেলাল খান
- বেলাল খান