ছবি সংগৃহীত

প্রিয় গন্তব্য: চট্টগ্রামের বাঁশখালি ইকো পার্ক

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:১৯
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:১৯

বাঁশখালী ইকো পার্ক লেক। ছবি: সংগৃহীত।
 
(প্রিয়.কম): বাঁশখালী ইকোপার্ক নামটি খুব একটা পরিচিত শোনায় না। আসলে চট্টগ্রাম শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে বাঁশখালী উপজেলা। এখানে আছে ঘুরে বেড়াবার মত আছে অনেক কিছুই। তাদের মাঝে বাঁশখালী ইকো পার্ক অন্যতম। টুরিস্ট এলাকা হিসেবে এটা এখনও তেমন খ্যাতি না পাবার কারণে আপনি এখানে পাবেন নির্জনতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এলাকার মানুষের আন্তরিকতা।
 
কোথায়: চট্টগ্রাম শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় বামের-ছড়া ও ডানের-ছড়া এলাকার সমন্বয়ে ২০০৩ সালে ১,০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক এর প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি জলদি অভয়ারণ্য রেঞ্জের জলদি ব্লকে অবস্থিত।
 
কীভাবে: ঢাকা থেকে গেলে আগে চট্টগ্রামে পৌঁছতে হবে। এর পরে প্রথমে কর্ণফুলীর তৃতীয় সেতু বা নতুন ব্রিজ যেতে হবে। সেখান থেকে বাস অথবা লোকাল সিএনজিতে গুনাগরি বাজার, বাসে নেবে ৬০ টাকা, সিএনজি নেবে ৭০-৮০ টাকা প্রতিজন। গুনাগরি বাজার থেকে লোকাল সিএনজিতে ৩০-৪০ টাকায় প্রতিজন অথবা ২০০-২৫০ টাকায় রিজার্ভ সিএনজি। ফিরে আসার সময় গাড়ি পেতে সমস্যা হতে পারে, তাই রিজার্ভ করে যাওয়া আসার ব্যবস্থা করলেই ভাল। দরাদরি করলে সিএনজিতে কম পাবার সুযোগ আছে।
 
বাঁশখালী ইকো পার্কে আছে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রীজ। ছবি: সংগৃহীত।
 
কী দেখবেন: বন্যপ্রাণী ও বনজসম্পদ রক্ষার্থে ১৯৮৬ সালে প্রায় ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর বনভূমি নিয়ে ‘চুনতি অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বামের-ছড়া ও ডানের-ছড়া প্রকল্প দুটিও চুনতি অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অভয়ারণ্যে ছোট-বড় অনেক পাহাড়, খাল ও ছড়া রয়েছে। ১৯৯৩ সালে এলজিইডি, প্রকৌশল বিভাগ কৃষি জমিতে সেচ প্রকল্পের জন্য পাহাড়ের ঢালুতে বাঁধ নির্মাণ করে ডানের ও বামের-ছড়ায় ৮০ হেক্টর নিম্নাঞ্চলের ধানি জমি চাষ উপযোগী করে। বিনোদনপ্রেমিদের কথা চিন্তা করে ২০০৩ সালে এ ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 
এখানে পাওয়া যাবে ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে ১৮ প্রজাতির দীর্ঘ বৃক্ষ, ১২ প্রজাতির মাঝারি বৃক্ষ, ১৬ প্রজাতির বেতসহ অসংখ্য অর্কিড, ইপিফাইট ও ঘাস জাতীয় গাছ। এই এলাকা গর্জন, গুটগুটিয়া, বৈলাম, সিভিট, চম্পাফুল এবং বিবিধ লতাগুল্ম সমৃদ্ধ চিরসবুজ বনাঞ্চলে ভরপুর। পার্ক এলাকার ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে বিভিন্ন ধরনের (বাফার, ভেষজ, দীর্ঘমেয়াদী) মনোমুগ্ধকর বাগান তৈরি করা হয়েছে। শীতের মৌসুমে এখানে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বর্ষাও বেশ আকর্ষণীয়।
 
ইকোপার্কে বিচরণরত কয়েক হাজার বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে পর্যটকরা যাতে খুব সহজেই জানতে পারেন সেজন্য ২০১১ সালের ২১ আগস্ট নির্মিত হয় তথ্যকেন্দ্র। এছাড়াও বাঁশখালী ইকোপার্কে রয়েছে বহুমুখী কৃত্রিম সৌন্দর্যের স্থাপনা আর বাংলাদেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।